
|
‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনে শরিয়াহ অমান্য করা যাবে না’
প্রকাশ:
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:১৪ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক শরিয়াহর নির্দেশনা অমান্য করার ফলে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে আবারও শরিয়াহর বিধান অমান্য করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন-১৮৮২’-এর সংশোধনকল্পে আনা ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন-২০২৬’-এর সমালোচনা করে এ কথা বলেন। মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, আইনের উদ্দেশ্য ও কারণ শিরোনামে আইনমন্ত্রীর দেওয়া বিবৃতিতে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন পদ্ধতির পাশাপাশি আরও একটি পদ্ধতি যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি ইসলামি শরিয়াহতে বিস্তারিতভাবে নির্ধারিত রয়েছে। সেখানে নতুন কোনো পদ্ধতি সংযোজনের প্রয়োজন বা সুযোগ নেই। তিনি বলেন, আইনটির কারণ ব্যাখ্যায় মন্ত্রীদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, শরিয়াহ নির্দেশিত উত্তরাধিকার আইন এড়িয়ে সন্তানদের জন্য সম্পত্তি এককভাবে নির্দিষ্ট করার উদ্দেশ্যে ‘হেবা’র অপব্যবহার থেকে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, সরকার সেটির সমাধান করতে চাইছে। ইসলামি উত্তরাধিকার আইনের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সন্তানদের পাশাপাশি ভাই, চাচা, দাদা ও অন্যান্য আত্মীয়েরও সম্পত্তিতে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে সন্তানদের বাইরে অন্য উত্তরাধিকারীদের বঞ্চিত করতে সন্তানদের নামে সম্পত্তি হেবা করার প্রবণতা সমাজে রয়েছে। তিনি বলেন, শরিয়াহর উত্তরাধিকার আইন পাশ কাটিয়ে হেবা করার এই প্রবণতার একটি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হলো—যে সন্তানের জন্য শরিয়াহর বিধান এড়িয়ে সম্পত্তি হেবা করা হয়, সেই সন্তানই হেবা সূত্রে সম্পত্তির মালিক হয়ে অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মাকে সেই সম্পত্তির ভোগ থেকে বঞ্চিত করে। এতে মানবিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, এই মানবিক সমস্যার সমাধান অবশ্যই জরুরি। তবে মনে রাখতে হবে, সমস্যাটির মূল কারণই হলো শরিয়াহর বিধান এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা। তাই এই সমস্যা সমাধানের নামে আবারও শরিয়াহর বিধান অমান্য করে হেবার নিয়মে পরিবর্তন আনা যাবে না। বরং সর্বত্র শরিয়াহ মেনে চলার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, হেবার পর বাবা-মাকে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের ঘটনা রোধে সমাজ, সংস্কৃতি ও শিক্ষাব্যবস্থায় বাবা-মায়ের প্রতি সম্মান ও দায়িত্ববোধের ধারণা আরও দৃঢ় করতে হবে। একই সঙ্গে বাবা-মায়ের প্রতি কর্তব্যে অবহেলাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা হলে সমস্যার সমাধান সম্ভব। ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন-২০২৬’ বাস্তবায়নযোগ্য নয় দাবি করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, হেবাকৃত সম্পত্তির ওপর হেবাপ্রাপ্ত ব্যক্তির পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত না হলে হেবা সম্পন্ন হবে না। আর হেবা সম্পন্ন না হলে হেবাকারী ব্যক্তির মৃত্যুর পর ওই সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার আইন প্রযোজ্য হবে। ফলে এ ধরনের জটিলতা নিয়ে আইন করা যায় না। তিনি বলেন, আমরা সরকারের সদিচ্ছার প্রতি সুধারণা রাখছি। তবে সম্ভবত গভীরভাবে পর্যালোচনা না করেই আইনটি আনা হয়েছে। তাই সরকারকে আইনটি নিয়ে আরও পর্যালোচনা করার আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে উলামায়ে কেরাম ও আইনবিদদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনারও আহ্বান জানান তিনি। মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, সমস্যা সমাধানের নামে কোনো অবস্থাতেই শরিয়াহর বিধান অমান্য করা যাবে না। এসএইচ/ |