
|
জান্নাতের নেয়ামতের অপূর্ব বর্ণনা দিলেন মসজিদে নববীর খতিব
প্রকাশ:
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৩ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
আন্তর্জাতিক ডেস্ক মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ সালাহ আল-বুদাইর এ সপ্তাহের জুমার খুতবায় জান্নাতের নেয়ামত ও সৌন্দর্যের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। খুতবায় তিনি তাকওয়া অবলম্বন, দুনিয়ার ক্ষণস্থায়িত্ব ও মৃত্যুর কথা স্মরণ এবং পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) খুতবায় শায়খ সালাহ আল-বুদাইর তাকওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আল্লাহভীতি এমন হওয়া উচিত, যেমন একজন অসুস্থ ব্যক্তি তার রোগ নিরাময়ের জন্য চিকিৎসা গ্রহণ করে এবং ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ বিষয় থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকে। এরপর তিনি জান্নাতের নির্মাণ ও বিস্তৃতির এক মনোমুগ্ধকর চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জান্নাতের ইট হবে সোনা ও রুপার, এর গাঁথুনিতে ব্যবহৃত হবে খাঁটি মিশকের সুগন্ধি মসলা। এর ভূমি হবে মুক্তা ও মূল্যবান পাথরে সজ্জিত। খুতবায় তিনি আরও বলেন, রাসুলুল্লাহ সা. সর্বপ্রথম জান্নাতের দরজায় কড়া নাড়বেন। জান্নাতের আটটি দরজার একটি দরজার দুই পাল্লার মধ্যবর্তী দূরত্ব মক্কা ও শামের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান বলে হাদিসে বর্ণনা করা হয়েছে। জান্নাতবাসীদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও খতিব বিস্তারিত আলোচনা করেন। সেখানে কোনো রোগ, দুর্বলতা কিংবা বার্ধক্য থাকবে না। জান্নাতবাসীরা চিরযৌবন লাভ করবেন এবং তাদের বয়স হবে ৩৩ বছর। তাদের জন্য চারটি স্থায়ী নেয়ামতের কথাও তুলে ধরা হয়—এমন জীবন, যার কোনো অবসান নেই; এমন সুস্থতা, যার কোনো অবনতি নেই; এমন যৌবন, যা কখনো শেষ হবে না; এবং এমন আনন্দ, যা কখনো দুঃখে পরিণত হবে না। খুতবায় জান্নাতের সর্বনিম্ন মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তির নেয়ামতের কথাও তুলে ধরেন শায়খ সালাহ আল-বুদাইর। তিনি বলেন, জান্নাতের সবচেয়ে কম মর্যাদার ব্যক্তিকেও দুনিয়ার কোনো রাজাধিরাজের রাজত্বের চেয়ে ৫০ গুণ বেশি নেয়ামত দেওয়া হবে। তবে এসব নেয়ামতের চেয়েও বড় পুরস্কার হিসেবে তিনি আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি এবং তাঁর দিদার লাভের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জান্নাতবাসীদের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর দীদারের চেয়ে বড় কোনো পুরস্কার নেই। দ্বিতীয় খুতবায় শায়খ সালাহ আল-বুদাইর দুনিয়ার ক্ষণস্থায়িত্ব ও মৃত্যুর বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দেন। একই সঙ্গে সৌদি আরবকে মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর সেবা এবং নিরাপত্তা ও ঈমানের নেয়ামত দানের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের কথা বলেন। খুতবার শেষে বৃষ্টির জন্য তিনবার সালাতুল ইস্তিসকার দোয়া করা হয়। পাশাপাশি মসজিদুল আকসার হেফাজত এবং ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। খুতবায় জান্নাতের এসব নেয়ামতের বর্ণনার মাধ্যমে মুসলমানদের আল্লাহর আনুগত্যে জীবন পরিচালনা এবং চিরস্থায়ী আখিরাতের জীবনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়। সূত্র: দ্য গেট টু হারামাইন আইও/ |