
|
মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লুটপাটের ঘটনায় শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহার
প্রকাশ:
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫০ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে নিজ পদ থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপির সদর দফতর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে। রাজধানীর মিরপুরে স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রশাসনিক করণ দেখিয়ে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ঢাকায় কর্মরত নিম্নবর্ণিত নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শককে প্রশাসনিক কারণে ২৬ সেপ্টেম্বর অপরাহ্ণে সদর দফতর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দফতর, ডিএমপি, ঢাকায় সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হলো। আদেশে শাহ আলী থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলমকে নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে উল্লেখ করে তার নতুন কর্মস্থল হিসেবে সদর দফতর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দফতর নির্ধারণ করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে। এদিকে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার কথা জানান সংশ্লিষ্টরা। ডিএমপির গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজমুল হক বলেন, ঘটনাটি ভিন্নভাবে সামনে এসেছে। ওই এলাকায় একটি জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল। এক পক্ষ তাদের জমিতে যেতে পারছিল না। ওই পক্ষ লোকজন নিয়ে আসার পর দুই পক্ষের ঝামেলার মধ্যে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও পড়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি আসলে অন্যরকম মনে হয়েছে। ওইখানে নিউ প্রপার্টি আছে এবং দুটি পক্ষ আছে। এক পক্ষের জমি থাকায় আরেক পক্ষ যেতে পারছে না। যে পক্ষ তার জমিতে যেতে পারছে না, তারা লোকজন নিয়ে আসছে যাতে গেট থেকে জায়গায় পৌঁছানো যায়। আর এই দুই পক্ষের ঝামেলার মধ্যে পড়ে গেছে সালমান মুক্তাদিরের এই স্টুডিও। হামলাকারীরাও জানে না, এটা তার স্টুডিও। তারা কিছু লোকজন নিয়ে আসছে এবং একটু যাই হোক এইটা-ওইটা ভাঙচুর করেছে। সহকারী পুলিশ কমিশনার বলেন, তো এই ব্যাপারটা অন্যভাবে চলে আসছে মিডিয়াতে। যে ঘটনা ঘটেছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত। এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি। হামলার ঘটনায় তিনজনকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে সালমান মুক্তাদির অভিযোগ করেছেন, বিএনপির লোকজন তার কাছে চাঁদা দাবি করেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিশোধ হিসেবে তার স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। তবে তার এই অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন না সালমান মুক্তাদির। খবর পেয়ে বিমানে ঢাকায় আসেন তিনি। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের স্টুডিওর ক্ষয়ক্ষতি দেখেন এবং ফেসবুক লাইভে বিষয়টি তুলে ধরেন। স্টুডিওর এক কর্মকর্তা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় এক থেকে দেড়শ’ লোক হঠাৎ স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। তাদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে স্টুডিওতে থাকা কর্মকর্তারা টয়লেটে গিয়ে আত্মগোপন করেন। হামলাকারীরা সেখানেও গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায়। ফেসবুক লাইভে নিজের ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্টুডিও দেখিয়ে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আমাদের স্টুডিও ডিস্ট্রয় হয়ে গেছে।’ হামলার পরও কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি থেমে থাকব না। আমি আমার প্যাশন চালিয়ে যাব। দেশ থেকে না হলে দেশের বাইরে থেকে চালিয়ে যাব।’ হামলার ঘটনায় মামলা করার কথাও জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির। তবে মামলার ধরন, ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। আইও/ |