আলী মিয়াঁ নদভীকে নিয়ে বই লিখে দিল্লি উর্দু একাডেমির পুরস্কার লাভ
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:০৭ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের প্রখ্যাত উর্দু লেখক, জীবনীকার ও ত্রৈমাসিক সাময়িকী ‘আপবীতি’র প্রধান সম্পাদক শাহ ইমরান হাসানের বই ‘মাওলানা সৈয়দ আবুল হাসান আলী নদভী: ব্যক্তিত্ব ও আন্দোলনের জ্ঞানগত ও ঐতিহাসিক পর্যালোচনা’ দিল্লি উর্দু একাডেমির ২০২৪ সালের গ্রন্থ পুরস্কারে দ্বিতীয় পুরস্কার অর্জন করেছে। গত ৯ অক্টোবর ২০২৬ দিল্লি উর্দু একাডেমির বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভারতের জাতীয় উর্দু ভাষা উন্নয়ন পরিষদের পরিচালক ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ড. শামস ইকবাল। তিনি উর্দু সাহিত্য ও ভাষার বিকাশে দিল্লি উর্দু একাডেমির ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদের অভিনন্দন জানান। তাঁর হাতেই বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে দিল্লি সরকারের শিক্ষা সচিব লেখরাজসহ সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, শিক্ষাক্ষেত্রের সাবেক কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাহিত্যিক, কবি, সাংবাদিক ও উর্দুপ্রেমী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে অনুষ্ঠিত হয় গজল পরিবেশনার আসর। এতে প্রখ্যাত গজলশিল্পী উস্তাদ ধনঞ্জয় গালিব, ফয়েজ আহমদ ফয়েজ, আহমদ ফারাজ ও ইবনে ইনশার কবিতা পরিবেশন করেন।

শাহ ইমরান হাসান গত ২৫ বছর ধরে উর্দু ভাষা ও সাহিত্যের চর্চায় যুক্ত রয়েছেন। জীবনী রচনা, গ্রন্থ প্রণয়ন, সাংবাদিকতা ও সম্পাদনায় তিনি পরিচিতি অর্জন করেছেন। তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘হায়াতে রাহমানি’, ‘হায়াতে ওয়ালি’, ‘আওরাকে হায়াত’, ‘তাজরেবাতে সফর’, ‘আধুরে খোয়াব’ এবং ‘মাওলানা ওয়াহিদুদ্দিন খান: লেখকদের লেখায়’। তাঁর ‘হায়াতে রাহমানি’ বইটির জন্য তিনি বিহার উর্দু একাডেমি থেকেও সম্মাননা পেয়েছেন।

তিনি ত্রৈমাসিক সাময়িকী ‘আপবীতি’র প্রধান সম্পাদক। ২০২৩ সালের প্রথমার্ধ থেকে প্রকাশিত সাময়িকীটি জীবনীভিত্তিক অবাস্তবধর্মী সাহিত্যচর্চা বা নন-ফিকশন ধারার প্রতিনিধিত্ব করছে।

পুরস্কারপ্রাপ্ত বইটিতে মাওলানা সৈয়দ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.)-এর ব্যক্তিত্ব, জ্ঞানগত ও চিন্তাগত অবদান এবং বিভিন্ন আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার গবেষণামূলক ও ঐতিহাসিক পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়েছে। এতে তাঁর জীবন ও জ্ঞানচর্চার উত্তরাধিকারকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে অনুধাবনের চেষ্টা করেছেন লেখক।

শাহ ইমরান হাসানের এ অর্জনকে তাঁর দীর্ঘদিনের সাহিত্যিক, গবেষণামূলক ও জীবনীভিত্তিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ সম্মাননায় সাহিত্য, শিক্ষা ও সাংবাদিকতা অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, এ স্বীকৃতি উর্দু জীবনীসাহিত্য ও গবেষণাধর্মী গ্রন্থ রচনায় আরও উৎসাহ জোগাবে। সূত্র: ইউএনএ নিউজ

এসএইচ/