
|
‘মাদরাসার শিক্ষক কেবল পাঠদানকারী নন, তিনি ইসলামের আহ্বায়কও’
প্রকাশ:
১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:২৪ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক কওমি মাদরাসার শিক্ষাদান পদ্ধতি ও আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে ঢাকায় আলেমদের গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের আচরণ, পাঠদানের প্রস্তুতি, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা, আবাসিক শিক্ষকদের কল্যাণ এবং শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীর শনির আখড়ায় মাদরাসাতুল হিকমাহ লিদ্দিরাসাতিল ইসলামিয়্যার প্রাঙ্গণে এ বৈঠকের আয়োজন করে জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া ঢাকার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন হাইয়াতু আবনাইল জামিয়ার কেন্দ্রীয় জেলা কমিটি। এতে প্রায় ৮০ জন অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়ার মহাপরিচালক মুফতি মাহমুদুল হাসান। আয়োজকেরা জানান, জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়ার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চিন্তা ও শিক্ষামূলক উদ্যোগ দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে জেলাভিত্তিক এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আস সুন্নাহ দাওয়াহ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষণা ও পাঠ্যক্রম উন্নয়ন দলের প্রধান মাওলানা আলাউদ্দিন রফিকী অংশ নেন। আয়োজকদের ভাষ্য, বৈঠকে ‘উন্নয়ন’ বলতে আধুনিকতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রচার বোঝানো হয়নি; বরং ইসলামি আদর্শ ও নীতিমালার আলোকে অভিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শে কওমি মাদরাসার শিক্ষাব্যবস্থা ও পরিবেশকে আরও কার্যকর করে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বৈঠকের প্রথম অধিবেশনে শিক্ষাদান পদ্ধতির উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। গবেষক ও মুহাদ্দিস শায়খ তাহমিদুল মাওলা বলেন, মাদরাসার শিক্ষক কেবল পাঠদানকারী নন, তিনি ইসলামের আহ্বায়কও। তাই শিক্ষার্থীকে দূরে ঠেলে দেওয়া কিংবা কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। মুফতি মাহমুদুল হাসান বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষাপদ্ধতিই হওয়া উচিত শিক্ষকদের আদর্শ। পাঠদানের আগে বিষয়বস্তু সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি তা উপস্থাপনের প্রস্তুতিও শিক্ষকের জন্য জরুরি। লেখক ও আলেম মাওলানা সাবের চৌধুরী বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী—উভয়েরই ভূমিকা রয়েছে। মাওলানা মোসাদ্দিক হোসাইন বলেন, প্রতিটি ক্লাসের আগে পাঠের উদ্দেশ্য নির্ধারণ এবং ক্লাস শেষে নিজের পাঠদানের কার্যকারিতা যাচাই করা শিক্ষকের দায়িত্ব। মাওলানা মারুফ হোসাইন বলেন, শিক্ষার্থীর অমনোযোগের পেছনে পারিবারিক পরিস্থিতি কিংবা দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তির সমস্যা থাকতে পারে। তাই প্রকৃত কারণ না জেনে কাউকে অলস বা অমনোযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। মাওলানা আলাউদ্দিন রফিকী বলেন, আবেগ সরাসরি পরিবর্তন করা কঠিন হলেও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। দ্বিতীয় অধিবেশনে আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। মাওলানা আব্দুল হাকিম বলেন, মাদরাসা কর্তৃপক্ষের উচিত আবাসিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করা। কাজের অতিরিক্ত চাপের কারণে শিক্ষকের মানসিক ও শারীরিক অবসাদে আক্রান্ত হওয়া কিংবা তার পারিবারিক জীবনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে অব্যবস্থাপনা ও যথাযথ তদারকির অভাবে শিক্ষার্থীদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠাও মেনে নেওয়া যায় না। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন মাদরাসায় ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, শিক্ষাব্যবস্থার বিদ্যমান সংকট নিয়ে সচেতন আলেমদের ভাবনা ও উদ্যোগ ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করবে। তাদের মতে, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব সামর্থ্য অনুযায়ী পাঠদান পদ্ধতি, আবাসন পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর উল্লেখযোগ্য সমাধান সম্ভব। এসএইচ/ |