
|
কুফার আকাশে এক নতুন সূর্য
প্রকাশ:
১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:৫২ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
|| আকিদুল ইসলাম সাদী || কুফার আকাশে তখন সন্ধ্যা নামছে। ফোরাতের দিক থেকে আসা বাতাসে দিনের গরম কিছুটা কমে এসেছে। শহরের ব্যস্ততা অবশ্য কমেনি। কোথাও ব্যবসায়ীদের হাঁকডাক, কোথাও উটের ঘণ্টাধ্বনি, আবার কোথাও মসজিদের দিকে ছুটে চলা মানুষের পদশব্দ। তৎকালিন কুফা শুধু একটি শহর নয়— জ্ঞান, ব্যবসা ও নানা চিন্তার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেই শহরেই একদিন জন্ম নিলেন একটি শিশু। নাম— নু‘মান ইবন সাবিত। ইতিহাসে পরবর্তীকালে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন ইমাম আবু হানিফা রহ. নামে। তাঁর জন্মের সাল নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কিছু মতভেদ পাওয়া যায়। প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী, তিনি ৮০ হিজরি, ৬৯৯ খ্রিস্টাব্দে কুফায় জন্মগ্রহণ করেন। তখন উমাইয়া খিলাফতের সময়। ছোট্ট নু‘মান সম্পর্কে তখন কেউ জানতেন না, একদিন তাঁর নাম উচ্চারিত হবে পৃথিবীর নানা প্রান্তে। তাঁর চিন্তা ও ফিকহি গবেষণা নিয়ে শত শত বছর ধরে মানুষ পড়বে, আলোচনা করবে। কেননা, একটি শিশুর জন্মের সময় তার ভবিষ্যৎ কেউ দেখতে পায় না। কিন্তু আল্লাহ তাআলা জানেন— কোন শিশুকে ভবিষ্যতে কোন কাজের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। নু‘মানের ক্ষেত্রেও এমনই কিছু অপেক্ষা করছিল। তাঁর জন্ম হয়েছিল এমন এক সময়ে, যখন ইসলামী জ্ঞানচর্চা দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছিল। সাহাবায়ে কেরামের পরবর্তী প্রজন্মের আলেমরা বিভিন্ন শহরে বসে কুরআন, হাদিস, ফিকহ ও অন্যান্য বিষয়ে জ্ঞানচর্চা করছিলেন। কুফাও হয়ে উঠেছিল জ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। শহরের রাস্তায় হাঁটলে একদিকে দেখা যেত ব্যবসায়ীদের দোকান। অন্যদিকে দেখা যেত মসজিদের ছায়ায় বসে থাকা ছাত্রদের। কেউ হাদিস লিখছে, কেউ কোনো আলেমের কাছে প্রশ্ন করছে, কেউ আবার কোনো মাসআলা নিয়ে আলোচনা করছে। এই পরিবেশেই বড় হচ্ছিল ছোট্ট নু‘মান। সবার চোখে ছোট্ট নু'মান তখন ছিল সাধারণ এক শিশু। কেউ কি জানত, এই শিশুই একদিন হয়ে উঠবেন এমন একজন আলেম, যার নামে একটি পূর্ণাঙ্গ ফিকহি মাযহাব পরিচিত হবে? সম্ভবত না। কারণ, ইতিহাসের বড় মানুষদের শৈশবও একদিন খুব সাধারণ ছিল। সেই সাধারণ দিনগুলোর মধ্যেই তৈরি হয় অসাধারণ ভবিষ্যৎ। নু‘মানের গল্পও সেখান থেকেই শুরু। এসএইচ/ |