
|
‘মুহাম্মদ’ নাম নিয়ে ট্রাম্পের ব্যঙ্গ
প্রকাশ:
১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:০৮ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
আন্তর্জাতিক ডেস্ক মুসলিম বিশ্বে ‘মুহাম্মদ’ নামের ব্যাপক প্রচলন নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে এক নির্বাচনি সমাবেশে ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও মুসলিম অধিকারবিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জর্জিয়ার ডাল্টনে ডাল্টন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের একটি হ্যাঙ্গারে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণার অংশ হিসেবে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে পশ্চিম এশিয়ার মানুষের নাম প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘এ অঞ্চলের কারও নাম নিয়ে সংশয় হলে তাকে স্রেফ মুহাম্মদ বলে ডাকুন।’ এরপর তিনি দাবি করেন, এভাবে ডাকলে নাম সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ। নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হ্যালো মুহাম্মদ’—বছরের পর বছর ধরে তিনি এভাবেই বলে আসছেন এবং কখনো ভুল হয়নি। মুসলিমদের মধ্যে ‘মুহাম্মদ’ বিশ্বের বহুল প্রচলিত পুরুষ নামগুলোর একটি। ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাম অনুসরণ করে বহু মুসলিম পরিবার তাঁদের ছেলেদের এ নাম রাখেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও বলেন, দেশটি এমন এক জায়গা, যেখানে কেউই প্রেসিডেন্ট হতে চান না। এ সময় মঞ্চে কাল্পনিকভাবে ‘মুহাম্মদ’ নামের কয়েকজনকে প্রেসিডেন্ট হতে আগ্রহী কি না, তা জিজ্ঞাসা করার ভঙ্গিতে ব্যঙ্গ করেন তিনি। তবে তাঁর এ রসিকতায় সমাবেশে উপস্থিত জনতার কাছ থেকে তেমন সাড়া মেলেনি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান। সমাবেশে ট্রাম্প আবারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রায় সাত মাস আগে তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচকেরা বলছেন, এ ধরনের মন্তব্য মুসলিম, অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের হেয় করে এবং তাঁদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় ট্রাম্প বারবার সোমালি ও মুসলিম আমেরিকানদের নিশানা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট দলের সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ এবং মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর, যিনি সোমালি শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। এসএইচ/ |