মসজিদে বোমা হামলার পরিকল্পনা থেকে মার্কিন সেনার ইসলাম গ্রহণ!
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:৫০ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

একসময় মুসলিমদের প্রতি তীব্র ঘৃণা পোষণ করতেন তিনি। পরিকল্পনা করেছিলেন একটি মসজিদে বোমা হামলা চালানোর। অথচ সেই মসজিদে গিয়েই মুসলিমদের আন্তরিকতা ও মানবিক আচরণের মুখোমুখি হন তিনি। বদলাতে শুরু করে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি। যে ইসলামকে তিনি সন্ত্রাসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতেন, সেই ইসলাম সম্পর্কে জানতে গিয়ে একপর্যায়ে ধর্মটি গ্রহণ করেন সাবেক মার্কিন সেনা রিচার্ড ‘ম্যাক’ ম্যাককিনি। তাঁর জীবনের এই পরিবর্তনের গল্প উঠে এসেছে অস্কার মনোনয়ন পাওয়া প্রামাণ্যচিত্র স্ট্রেঞ্জার অ্যাট দ্য গেট-এ।

আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিচার্ড ম্যাককিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের মুনসি শহরের বাসিন্দা। মার্কিন সামরিক বাহিনীতে প্রায় ২৫ বছর দায়িত্ব পালন করা এই ব্যক্তি একসময় মুসলিমদের সম্পর্কে গভীর নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতেন। সেই বিদ্বেষ থেকেই শহরের একটি মসজিদে বোমা হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেন তিনি। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটানো।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে মসজিদটি সম্পর্কে জানতে সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রিচার্ড। তাঁর ধারণা ছিল, মসজিদে গেলে মুসলিমদের সম্পর্কে নিজের নেতিবাচক ধারণার পক্ষে প্রমাণ পাবেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন।

মসজিদে উপস্থিত মুসলিমরা তাঁকে শত্রু হিসেবে দেখেননি। বরং আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেন এবং তাঁর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করেন। তাদের অতিথিপরায়ণতা ও মানবিক ব্যবহার রিচার্ডকে নিজের বিশ্বাস ও পূর্বধারণা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। যাঁদের প্রতি তাঁর মনে এত দিন ঘৃণা ও অবিশ্বাস ছিল, তাঁদের মধ্যেই তিনি দেখতে পান আন্তরিকতা ও সহমর্মিতা।

এই অভিজ্ঞতার পর ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর মধ্যে। শুরু করেন ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা। পবিত্র কোরআনের ইংরেজি অনুবাদ পড়াসহ ইসলামের শিক্ষা ও মূল্যবোধ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন। ধীরে ধীরে মুসলিমদের সম্পর্কে তাঁর দীর্ঘদিনের ধারণা বদলাতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।

রিচার্ডের জীবনের এই পরিবর্তন নিয়ে নির্মিত স্ট্রেঞ্জার অ্যাট দ্য গেট প্রামাণ্যচিত্রটি ২০২৩ সালে অস্কারের সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র বিভাগে মনোনয়ন পায়। এতে তুলে ধরা হয়েছে, কীভাবে একটি মসজিদে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে যাওয়া ব্যক্তি সেখানকার মুসলিমদের আন্তরিকতার সংস্পর্শে এসে নিজের জীবন ও দৃষ্টিভঙ্গি বদলে ফেলেন।

এসএইচ/