
|
‘মুয়াজ্জিন কল্যাণ সমিতি সিলেট’-এর উদ্যোগে তাফসিরুল কোরআন মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত
প্রকাশ:
১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:১৬ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
সিলেট প্রতিনিধি: বর্ণাঢ্য আয়োজন ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি ও সামাজিক সংগঠন ‘মুয়াজ্জিন কল্যাণ সমিতি সিলেট’ আয়োজিত ১৫তম বার্ষিক তাফসিরুল কোরআন মহাসম্মেলন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকাল ২টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রি মাঠে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে পবিত্র কোরআনের তাফসীর পেশ করেন আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের আমীর ও সমিতির উপদেষ্টা মুফতী রশীদুর রহমান ফারুক (পীর সাহেব বরুনা); মুফতী মুস্তাকুন্নবী কাসেমী, ঢাকা; মুফতী মেরাজুল হক, ঢাকা; মুফতী হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী, ঢাকা; মুফতী রেজাউল করিম আবরার, ঢাকা; মৌচাক জামে মসজিদ সিলেটের খতিব মুফতী খন্দকার হারুনুর রশিদ; জালালাবাদ আবাসিক এলাকার জামে মসজিদ সিলেটের ইমাম ও খতিব মাওলানা শুয়াইব আহমদ; সমিতির উপদেষ্টা মাওলানা রফিকুল ইসলাম জাকারিয়া; মুঈনুল ইসলাম লামাশ্যামপুর হরিপুরের মুহতামিম মাওলানা মীম সুফিয়ান প্রমুখ। সম্মেলনের পৃথক পৃথক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জামেয়া নুরিয়া ইসলামিয়া ভার্থখলা সিলেটের প্রিন্সিপাল, মুয়াজ্জিন কল্যাণ সমিতি সিলেটের উপদেষ্টা হাফিজ মাওলানা মজদুদ্দীন আহমদ; জামেয়া কাসিমুল উলুম দরগাহ মাদ্রাসা সিলেটের মুহতামিম মাওলানা মাশুক উদ্দিন বড়বাড়ী; জামেয়া মাদানিয়া কাজিরবাজার মাদ্রাসা সিলেটের শিক্ষা সচিব ও সমিতির উপদেষ্টা মুফতী শফিকুর রহমান; জামেয়া ইসলামিয়া হোসাইনিয়া নয়াসড়ক সিলেটের মুহতামিম মাওলানা শায়খ সাইফুল্লাহ; মুয়াজ্জিন কল্যাণ সমিতি সিলেটের সভাপতি মাওলানা সাইদুর রহমান। বক্তাগণ বলেন, মানবজীবনের প্রকৃত সফলতা, আত্মিক শান্তি এবং পরকালীন মুক্তির মূল ভিত্তি হলো ইমান এবং সৎ আমল। ইসলামী জীবনদর্শনে ইমান ও আমল একটি মুদ্রার দুই পিঠের মতো—একটি ছাড়া অন্যটি অসম্পূর্ণ। বক্তাগণ বলেন, মহান আল্লাহ তাআলাকে এক ও অদ্বিতীয় মেনে নেওয়া, তাঁর প্রেরিত রাসুলদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং দ্বীনের সার্বিক নির্দেশনাকে অন্তরে সত্য বলে ধারণ করাই হলো ইমানের মূল কথা। সেই বিশ্বাসের বাস্তব প্রতিফলন ঘটে আমাদের দৈনন্দিন কর্মে বা আমলে। সালাত আদায়, জাকাত প্রদান, সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ, বান্দার হক আদায় এবং মানুষের সাথে উত্তম আচরণ করা। মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে অসংখ্য স্থানে ইমানের বর্ণনার পরপরই ‘আমলে সালেহ’ বা সৎ কর্মের কথা উল্লেখ করেছেন। ইমান মানুষকে অন্যায় ও পাপাচার থেকে বিরত রাখে, আর সৎ আমল মানুষের চরিত্র ও সমাজকে সুন্দর করে গড়ে তোলে। সমাজে শান্তি, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক ভালোবাসা প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে ইমান ও আমলের চর্চা বাড়াতে হবে। বক্তাগণ জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সুধী সমাজ, বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মুয়াজ্জিন কল্যাণ সমিতি সিলেট-এর এই মানবিক ও কল্যাণকামী উদ্যোগে জোরালো সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদানের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান। আইও/ |