কত বছর বয়স থেকে আমলনামায় গুনাহ লেখা হয়?
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:১৮ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক 

মানুষের জীবনে বালেগ হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। এ পর্যায়ে পৌঁছার পর তার ওপর শরিয়তের বিধিবিধান প্রযোজ্য হয়। নামাজ, রোজাসহ অন্যান্য ফরজ ইবাদত পালনের দায়িত্ব তার ওপর বর্তায়। একইভাবে শরিয়তবিরোধী কাজের জন্যও সে দায়বদ্ধ হয়। তাই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, কত বছর বয়স থেকে মানুষের আমলনামায় গুনাহ লেখা শুরু হয়?

ইসলামি শরিয়তে এ ক্ষেত্রে শুধু বয়স নয়, বালেগ হওয়ার নির্দিষ্ট আলামতকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বালেগ হওয়ার পরই আমলনামায় গুনাহ লেখা হয়

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন,

وَإِذَا بَلَغَ الْأَطْفَالُ مِنْكُمُ الْحُلُمَ فَلْيَسْتَأْذِنُوا

অর্থ: ‘আর তোমাদের সন্তানরা যখন বয়ঃপ্রাপ্ত হবে, তখন তারাও যেন অনুমতি প্রার্থনা করে, যেমন তাদের পূর্ববর্তীরা অনুমতি প্রার্থনা করত।’ (সূরা নুর, আয়াত: ৫৯)

আয়াতটিতে বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার পরের বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসেও বালেগ হওয়ার আগে ও পরের অবস্থার পার্থক্য স্পষ্ট করা হয়েছে।

রাসূলে কারীম (সা.) বলেছেন,

رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ: عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ، وَعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَحْتَلِمَ، وَعَنِ الْمَجْنُونِ حَتَّى يَعْقِلَ

‘তিন শ্রেণির মানুষের ওপর থেকে আমল লেখার কলম উঠিয়ে রাখা হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হওয়া পর্যন্ত, শিশু বালেগ হওয়া পর্যন্ত এবং পাগল ব্যক্তি সুস্থ বুদ্ধি ফিরে পাওয়া পর্যন্ত।’ (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৪৪০৩; হাদিস নম্বর সংস্করণভেদে ভিন্ন হতে পারে)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, শিশু বালেগ হওয়ার আগে শরিয়তের বিধান পালনের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মতো দায়বদ্ধ নয়। তবে বালেগ হওয়ার পর সে শরিয়তের বিধান পালনে বাধ্য হয় এবং জেনে-বুঝে গুনাহের কাজ করলে তার দায়ভার বহন করতে হয়।

ছেলেদের বালেগ হওয়ার আলামত

ছেলেদের বালেগ হওয়ার প্রধান আলামতগুলোর মধ্যে রয়েছে—

১. স্বপ্নদোষের মাধ্যমে বীর্যপাত হওয়া।

২. জাগ্রত অবস্থায় বীর্যপাত হওয়া।

এ ধরনের আলামত প্রকাশ পেলে নির্ধারিত বয়সসীমার অপেক্ষা না করেই তাকে বালেগ গণ্য করা হবে।

মেয়েদের বালেগ হওয়ার আলামত

মেয়েদের বালেগ হওয়ার প্রধান আলামতগুলোর মধ্যে রয়েছে—

১. ঋতুস্রাব বা হায়েজ শুরু হওয়া।

২. স্বপ্নদোষের মাধ্যমে বীর্যপাত হওয়া।

৩. গর্ভধারণ করা।

এসব আলামতের কোনোটি প্রকাশ পেলে সংশ্লিষ্ট মেয়েকে বালেগ গণ্য করা হবে।

আলামত প্রকাশ না পেলে কত বছর বয়সে বালেগ হবে?

কোনো ছেলে বা মেয়ের মধ্যে বালেগ হওয়ার আলামত প্রকাশ না পেলে বয়সের ভিত্তিতে বালেগ হওয়ার বিধান কার্যকর হবে। হানাফি মাজহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী, ছেলে ও মেয়ে উভয়ের বয়স ১৫ চান্দ্র বছর পূর্ণ হলে তাদের বালেগ গণ্য করা হয়।

এ বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর একটি বর্ণনা রয়েছে। তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল ১৪ বছর। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতি দেননি। পরবর্তী সময়ে খন্দকের যুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ১৫ বছর হলে তাঁকে অনুমতি দেওয়া হয়।

বর্ণনাটি শুনে উমর ইবনে আবদুল আজিজ রহ. বলেন,

إِنَّ هَذَا لَحَدٌّ بَيْنَ الصَّغِيرِ وَالْكَبِيرِ

‘এটাই ছোট ও বড় হওয়ার মধ্যবর্তী সীমারেখা।’(সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৬৬৪, ৪০৯৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৬৮)

এই বর্ণনার ভিত্তিতে হানাফি ফিকহে ১৫ বছর বয়সকে বালেগ হওয়ার বয়সসীমা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে বয়স বলতে চান্দ্র বছর বোঝানো হয়েছে।

শিশুকে ছোটবেলা থেকেই দ্বীনের শিক্ষা দেওয়া জরুরি

বালেগ হওয়ার আগে শিশু শরিয়তের বিধান পালনের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মতো দায়বদ্ধ না হলেও ছোটবেলা থেকেই তাকে নামাজ, রোজা, শিষ্টাচার ও নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়া অভিভাবকের দায়িত্ব। যেন বালেগ হওয়ার পর সে শরিয়তের বিধান যথাযথভাবে পালন করতে পারে।

সুতরাং, বালেগ হওয়ার নির্দিষ্ট আলামত প্রকাশ পেলে তখন থেকেই শরিয়তের বিধান প্রযোজ্য হবে। আর কোনো আলামত প্রকাশ না পেলে হানাফি মাজহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী ১৫ চান্দ্র বছর পূর্ণ হলে ছেলে-মেয়ে উভয়কেই বালেগ গণ্য করা হবে। এ পর্যায় থেকে শরিয়তবিরোধী কাজের জন্য তারা দায়বদ্ধ হবে।

এসএইচ/