
|
বালিশের পাশে ফোন রেখে ঘুমান? জেনে নিন যেসব ঝুঁকি রয়েছে
প্রকাশ:
১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৫৮ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
আওয়ার ইসলাম ডেস্ক ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখা, ভিডিও চালানো কিংবা বার্তা পড়া এখন অনেকেরই অভ্যাস। কেউ ফোন রাখেন বালিশের পাশে, কেউ বিছানার পাশের টেবিলে। আবার অনেকে ফোন চার্জে দিয়েই ঘুমিয়ে পড়েন। তবে এসব অভ্যাস ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করার পাশাপাশি কিছু নিরাপত্তাঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিছানার পাশে মোবাইল ফোন রাখলেই ক্যানসার বা গুরুতর কোনো রোগ হবে—এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে রাতে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার, নোটিফিকেশনের কারণে ঘুমের ব্যাঘাত এবং চার্জ দেওয়ার সময় ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। নীল আলো যেভাবে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায় মোবাইল ফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত আলো শরীরের স্বাভাবিক ঘুম ও জাগরণের চক্রে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে রাতে অতিরিক্ত আলো ঘুম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ঘুমানোর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করা, ভিডিও দেখা কিংবা বার্তা পড়ার কারণে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে। শুধু স্ক্রিনের আলো নয়, ফোনের আকর্ষণীয় বিষয়বস্তুও মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে। এ সমস্যা এড়াতে ঘুমানোর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে ফোন ব্যবহার বন্ধ করার অভ্যাস করা যেতে পারে। নাইট মোড স্ক্রিনের আলোর ধরন পরিবর্তন করলেও দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারের সব প্রভাব দূর করতে পারে না। নোটিফিকেশনে ভাঙতে পারে ঘুম ফোন ব্যবহার না করলেও কল, বার্তা, নোটিফিকেশন কিংবা ভাইব্রেশনের কারণে ঘুমের মধ্যে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। বারবার ঘুম ভাঙলে সকালে ক্লান্তি, বিরক্তি ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া বালিশের পাশে ফোন থাকলে রাতে ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই মেসেজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা এড়াতে রাতে ফোনের ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ বা সাইলেন্ট মোড চালু রাখা যেতে পারে। জরুরি কলের ব্যবস্থা চালু রেখে ফোনটি বালিশ থেকে কিছুটা দূরে রাখাই ভালো। মোবাইল ফোনের বিকিরণে কি ক্যানসার হয়? মোবাইল ফোন থেকে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বা আরএফ শক্তি নির্গত হয়। এটি এক ধরনের নন-আয়োনাইজিং বিকিরণ, যা এক্স-রের মতো আয়োনাইজিং বিকিরণ থেকে আলাদা। আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা (আইএআরসি) রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বিকিরণকে ‘সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী’ হিসেবে গ্রুপ ২বি শ্রেণিতে রেখেছে। তবে এই শ্রেণিবিন্যাসের অর্থ এই নয় যে মোবাইল ফোন ক্যানসার সৃষ্টি করে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেছে। মোবাইল ফোনের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গবেষণা চলছে। এখন পর্যন্ত শুধু বিছানার পাশে ফোন রাখার কারণে ক্যানসার হয়—এমন দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ফোন শরীর থেকে কিছুটা দূরে রাখা, কথা বলার সময় স্পিকার ব্যবহার করা এবং প্রয়োজন না থাকলে এয়ারপ্লেন মোড চালু রাখা যেতে পারে। বালিশের নিচে ফোন চার্জ দেওয়া বিপজ্জনক রাতে ফোন কাছে রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিগুলোর একটি হলো চার্জ দেওয়ার সময় অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া। বালিশ, কম্বল বা তোশকের নিচে ফোন রেখে চার্জ দিলে তাপ বের হওয়ার সুযোগ কমে যায়। এতে ফোন অতিরিক্ত গরম হতে পারে এবং আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাটারি, ত্রুটিপূর্ণ চার্জার কিংবা নষ্ট তার এ ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ফোন চার্জ দেওয়ার সময় বিছানা, বালিশ ও কম্বল থেকে দূরে শক্ত ও সমতল জায়গায় রাখা উচিত। প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী উপযুক্ত চার্জার ও তার ব্যবহার করাও জরুরি। রাতে অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারে বাড়তে পারে মানসিক চাপ বিছানার পাশে ফোন থাকলে গভীর রাতেও খবর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অফিসের বার্তা কিংবা ই-মেইল দেখার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে উদ্বেগজনক খবর বা কাজের চাপসংক্রান্ত বার্তা ঘুমের আগে মানসিকভাবে শান্ত হওয়া কঠিন করে তুলতে পারে। ফোন কাছে থাকলেই উদ্বেগ বা বিষণ্ণতা তৈরি হবে—এমন নয়। তবে রাত জেগে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার, দেরিতে ঘুমানো এবং ঘুমের মান খারাপ হওয়ার মতো বিষয় দীর্ঘমেয়াদে মানসিক সুস্থতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ঘুমানোর আগে ফোন ব্যবহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা ঠিক করা এবং রাতে ফোন থেকে দূরে থাকার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। এর পরিবর্তে বই পড়া, আরামদায়ক অডিও শোনা কিংবা সহজ শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন ঘুমের প্রস্তুতিতে সহায়ক হতে পারে। সুস্থ ঘুমের জন্য যা করবেন মনে রাখতে হবে, বালিশের পাশে ফোন রাখার চেয়ে রাতে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার, ঘুমের ব্যাঘাত এবং অনিরাপদভাবে চার্জ দেওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে সচেতন থাকা বেশি জরুরি। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে রাতে ফোন ব্যবহারে সংযমী হওয়াই ভালো। এসএইচ/ |