
|
আসামে মুসলিমদের ১১০০ ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার নিন্দা নাহিদ ইসলামের
প্রকাশ:
২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৬ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক ভারতের আসামে বাঙালি মুসলিমদের ১১০০টির বেশি ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ভারতের মুসলিমরাও দেশটির নাগরিক। তাদের নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বুধবার (২১ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন। স্ট্যাটাসে নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, আসামে সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানে বাঙালি মুসলিমদের ১১০০টির বেশি ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় ১০টির বেশি মসজিদও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি মসজিদ ৫০ বছরেরও বেশি পুরোনো। সরকারি ও বনভূমি থেকে কথিত অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের যুক্তি দেওয়া হলেও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবারের সঙ্গে ওই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি ভারতের স্বাধীনতার আগেও এসব পরিবার সেখানে বসবাস করে আসছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না করেই তাঁদের গৃহহীন অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। এসব পরিবারের কয়েকজনকে আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতে বাঙালি মুসলিমদের প্রতি বৈষম্য ও নিপীড়নের ধারাবাহিকতার অংশ এই উচ্ছেদ অভিযান। হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাবে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত এক দশকে দেশটিতে প্রায় ১৯ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নাহিদ ইসলামের ভাষ্য, বছরের পর বছর ধরে ভারতের বাঙালি মুসলিমরা দমন-পীড়ন, জোরপূর্বক সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেওয়া এবং ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার মতো ঘটনার শিকার হচ্ছেন। তাঁর মতে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে মুসলিম সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা তাদের অধিকার ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। আসামের উচ্ছেদ অভিযানের সঙ্গে ১৯৯২ সালে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনার তুলনা করে তিনি বলেন, বাবরি মসজিদ ধ্বংস ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের স্থায়ী প্রতীকে পরিণত হয়েছে। নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির অধীনে ভারত মুসলিম, খ্রিষ্টান ও শিখসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং নিম্নবর্ণের হিন্দুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে মুসলিমদের নিপীড়নের অভিযোগের বিষয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে ভারত সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান। জাতি, ধর্ম কিংবা সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে স্ট্যাটাসের শেষাংশে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ভারতের মুসলিমরাও ভারতীয়।’ আইও/ |