দ্বীন ও জাতীয় ইস্যুতে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই মাদরাসা ও ইসলামী সংগঠনগুলোর
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৫ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

|| মুফতি শেখ মুহা. নাঈম বিন আ. বারী ||

বর্তমানে ইসলাম ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো ইস্যুতে নির্দিষ্ট কিছু ইসলামী রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে রাজপথে সোচ্চার হতে এবং প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। কিন্তু প্রশ্ন জাগে—এ দায়িত্ব কি কেবল নির্দিষ্ট কিছু সংগঠনের? মাদরাসা বা দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর কি এর সঙ্গে কোনো দায়বদ্ধতা নেই? সংগঠনগুলো প্রতিবাদ করবে, আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দায় এড়িয়ে যাবে—বিষয়টি কি এমন?

আমাদের মনে রাখা দরকার, কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার মূল ঐতিহাসিক উদ্দেশ্যই ছিল ‘জিহাদ ও রুহানিয়তের দুর্গ’ গড়ে তোলা। যদি কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আর সনাতন পন্থাই উদ্দেশ্য হতো, তবে তৎকালীন ব্রিটিশ শাসিত আলিয়া মাদরাসাও যথেষ্ট ছিল।

দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ ইসলামী দলগুলোর একটি অংশ বহির্বিশ্বের ভূরাজনৈতিক বিতর্ক বা চাপের আশঙ্কায় অনেক সময় নীরব থাকে; অন্যদিকে বেশিরভাগ মাদরাসাও অনুদান ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তার কথা ভেবে মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকে। এমন আচরণ আমাদের গোড়াপত্তনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না—ভেবে দেখা দরকার।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় আমাদের আকাবির ও আসলাফগণ যেমন, হযরত শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি (রহ.), হযরত আতাউল্লাহ শাহ বুখারি (রহ.), ড. আল্লামা ইকবাল (রহ.), মোল্লা ওমর (রহ.) প্রমুখ—কেউই সুনির্দিষ্ট কোনো কাঠামোগত সংগঠনের গণ্ডিবদ্ধ দায়িত্বশীল ছিলেন না। তাঁদের অনেকেই ছিলেন মাদরাসার গণ্ডির ভেতর, তবুও খাঁটি মুসলমান হিসেবে এককভাবে বা জনতা নিয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। কেউ বুখারী শরিফের দরস দেওয়ার ফাঁকে বা মক্তবের চেয়ারে বসে তো কেউ ভার্সিটির ডিগ্রি নিয়ে ময়দানে নেমেছেন। হ্যাঁ, এটা সত্য, পরবর্তীতে উনাদের প্রায় সকলেই একক আন্দোলনের গণ্ডি পেরিয়ে দল গঠন করেছেন এবং দলগতভাবে কাজ করেছেন।

শেষ কথা, এখানে কোনো নির্দিষ্ট ‘ইসলামী সংগঠন’ বা ‘ইসলামী প্রতিষ্ঠান’ বলে আলাদা করার সুযোগ নেই। দ্বীনের যেকোনো সংকটে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে সোচ্চার হওয়ার ব্যাপারে আমরা কেউ আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা করা থেকে মুক্ত নই। সুতরাং সাহস নিয়ে এগিয়ে চলুন। আপনার এই সৎ সাহসের পেছনে সহযোগীর কোনো অভাব হবে না, ইনশাআল্লাহ।

লেখক: আমীর, সচেতন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ফেডারেশন

আইও/