
|
জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ছাড়ছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস!
প্রকাশ:
২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪০ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
বিশেষ প্রতিনিধি কওমি ধারার সাতটি ইসলামি দলকে নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ার উদ্যোগে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ‘সমমনা ইসলামি দল’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সাত দলের কোনোটি বিএনপির নেতৃত্বাধীন কিংবা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে থাকতে পারবে না—এমন শর্ত রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ফলে নতুন ঐক্যে যুক্ত হতে হলে জোটে থাকা দলগুলোকে নিজ নিজ অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে হবে। এই ঐক্যপ্রক্রিয়ায় শুরু থেকেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। অন্য দলগুলো বিদ্যমান জোট বা রাজনৈতিক সমঝোতা থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও দলটি এ বিষয়ে সম্মতি দিচ্ছিল না। তাদের আপত্তির কারণে সাত দলের ঐক্য শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে সরে আসার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলীয় সূত্রের দাবি, হেফাজতে ইসলামের তত্ত্বাবধানে সাত দলের ঐক্যপ্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার বিষয়ে দলটির অভ্যন্তরীণ ফোরাম সম্মতি দিয়েছে। সে অনুযায়ী, আপাতত জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে থাকলেও শিগগিরই সেখান থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিতে পারে দলটি। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একজন প্রভাবশালী নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ার ইসলামকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আপাতত জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে আছি। তবে শিগগিরই সেখান থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দেব।’ দলটির অবস্থান ব্যাখ্যা করে ওই নেতা আরও বলেন, ‘রাজনীতিতে যেকোনো অবস্থান নেওয়ার ব্যাপারে আমাদের সৎ সাহস আছে। আমরা কারও কাছ থেকে কোনো সুবিধা নিইনি। সুতরাং আমরা স্বাধীনভাবে নিজেদের অবস্থান নিতে পারি।’ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক তৎপরতা বেড়েছে এবং দলটি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনায় রয়েছে। তবে আলেম-উলামার একটি বড় অংশের মধ্যে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে দলটির থাকা নিয়ে আপত্তি রয়েছে। একই সঙ্গে কওমি অঙ্গনে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখতে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সমন্বয়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন দলটির নেতাদের একাংশ। এসব বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত অবস্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এসেছে বলে সূত্রগুলোর দাবি। নতুন ঐক্যে যুক্ত হলে দলটির আমির মাওলানা মামুনুল হকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশা রয়েছে বলে জানা গেছে। হেফাজতে ইসলামের তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা এই ঐক্যপ্রক্রিয়ায় রয়েছে সাতটি দল—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট ও নেজামে ইসলাম পার্টি। গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসায় সাত দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। বৈঠক শেষে নেতারা ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্যের কথা জানান। এ সময় এক মাসের মধ্যে ঐক্যের রূপরেখা জমা দিতে দলগুলোকে বলা হয়। পরবর্তী সময়ে দলগুলো নিজেদের প্রস্তাব জমা দেয়। গত ১৫ আগস্ট রাজধানীর মাখজানুল উলুম মাদরাসায় প্রস্তাবগুলো নিয়ে বৈঠক হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর বাবুনগর মাদরাসায় সাত দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে আবার বৈঠক হয়। সেখানে হেফাজতের পক্ষ থেকে ঐক্যের সাংগঠনিক কাঠামো ও কর্মপদ্ধতির প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। তবে কয়েকটি শর্ত নিয়ে আপত্তি ওঠায় সেদিনও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। হেফাজতের প্রস্তাবিত কাঠামোর একটি শর্তে বলা হয়েছে, সাত দলের কোনোটি একক সিদ্ধান্তে অন্য কোনো ইসলামি বা অনৈসলামিক দলের সঙ্গে জোট করতে পারবে না। দেশ, জাতি ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে অন্য দলের সঙ্গে সমঝোতার প্রয়োজন হলে সাত দলের মজলিসে শুরা ও উপদেষ্টা পরিষদের অনুমতি নিতে হবে। আরেকটি শর্তে বলা হয়েছে, সাত দলের কোনো নেতা আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদাবিরোধী বা ভ্রান্ত বলে বিবেচিত কোনো দলের সভা-সমাবেশে অংশ নিতে পারবেন না। এদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ছাড়লে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশও বিএনপির সঙ্গে থাকা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থাকা কওমি মাদরাসাভিত্তিক কয়েকটি ছোট দলও জোট থেকে বেরিয়ে আসতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি। আইও/ |