
|
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার আপিল, মুসলিম নাম দেখলেই খারিজ
প্রকাশ:
২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৩ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন খারিজ হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৮০ দশমিক ২ শতাংশই মুসলিম। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খারিজ হওয়া ৬ হাজার ৪৪৪টি আপিলের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। কয়েকটি নির্বাচনি এলাকায় খারিজ হওয়া আবেদনকারীদের মধ্যে মুসলিম নামধারীর হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৩ এপ্রিল থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্তির আবেদনগুলোর মধ্যে ৬ হাজার ৪৪৪টি খারিজ করেছেন আপিল ট্রাইব্যুনালগুলো। পশ্চিমবঙ্গের গবেষক, বিশ্লেষক ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নিয়ে গঠিত স্বতন্ত্র সংগঠন ‘সিভিক রিসার্চ গ্রুপ’ খারিজ হওয়া প্রতিটি আবেদনের বিস্তারিত তথ্য দ্য ওয়্যার-এর কাছে সরবরাহ করে। আবেদনকারীদের নামের ভিত্তিতে করা প্রাক্কলনে দেখা যায়, খারিজ হওয়া আবেদনকারীদের মধ্যে ৫ হাজার ১৬৯ জনের নাম মুসলিম, ১ হাজার ২২১ জনের নাম হিন্দু। বাকি ৫৪ জনের নাম নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণিতে ফেলা যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব ১২৯টি নির্বাচনি এলাকায় এসব আবেদন খারিজ হয়েছে, সেসব এলাকায় মোট ভোটারের প্রায় ২২ শতাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। কিন্তু খারিজ হওয়া আবেদনকারীদের মধ্যে মুসলিম নামধারীদের অনুপাত অনেক বেশি। নির্বাচনি এলাকাভিত্তিক হিসাবে মুসলিম নামধারীদের আবেদন খারিজের হার সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে হুগলি জেলার খানাকুলে। সেখানে খারিজ হওয়া ৮৩১টি আবেদনের মধ্যে ৯৬ দশমিক ৫ শতাংশই মুসলিম নামধারীদের। অথচ এলাকাটিতে সংখ্যালঘু ভোটারের হার প্রায় ২০ শতাংশ। বোলপুরে খারিজ হওয়া ৮০৮টি আবেদনের ৮৮ শতাংশ মুসলিম নামধারীদের। সেখানে সংখ্যালঘু ভোটারের হার প্রায় ৩০ শতাংশ। রায়গঞ্জে ৬৫৯টি আবেদন খারিজ হয়েছে, যার ৯২ শতাংশই মুসলিম নামধারীদের। এলাকাটিতে সংখ্যালঘু ভোটারের হার ১৯ শতাংশ। এ ছাড়া সবংয়ে খারিজ হওয়া ২৩৪টি আবেদনের ৮৮ শতাংশ মুসলিম নামধারীদের। অথচ সেখানে সংখ্যালঘু ভোটারের হার ৭ শতাংশেরও কম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেসব ৫১টি নির্বাচনি এলাকায় অন্তত ২০টি করে আবেদন খারিজ হয়েছে, তার ৩২টিতে খারিজ হওয়া আবেদনকারীদের মধ্যে মুসলিম নামধারীর হার ৮০ শতাংশ বা তার বেশি। মাত্র পাঁচটি নির্বাচনি এলাকাতেই মোট খারিজের ৪৪ শতাংশ ঘটেছে। হুগলি জেলাজুড়েও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। জেলাটিতে মোট ভোটারের প্রায় ১৫ শতাংশ সংখ্যালঘু হলেও খারিজ হওয়া আবেদনকারীদের ৮৩ শতাংশ মুসলিম নামধারী। তবে সব জেলায় খারিজ হওয়া আবেদনকারীদের মধ্যে মুসলিম নামধারীদের সংখ্যাধিক্য দেখা যায়নি। দক্ষিণ দিনাজপুরে খারিজ হওয়া ২১৫টি আবেদনের প্রায় ৯৮ শতাংশই হিন্দু নামধারীদের। এসব আবেদনের প্রায় ৭০ শতাংশের ক্ষেত্রে এমন পদবি রয়েছে, যা সাধারণত তফসিলি জাতির সঙ্গে সম্পর্কিত। বালুরঘাটে খারিজ হওয়া ৬৩টি আবেদনের মধ্যে কোনো মুসলিম নামধারী আবেদনকারী ছিলেন না। গঙ্গারামপুরে ৫৭টি, তপনে ৩৯টি এবং কুশমণ্ডিতে ২৫টি আবেদন খারিজ হয়েছে। এসব এলাকার প্রতিটিতে খারিজ হওয়া আবেদনকারীদের ৯০ শতাংশের বেশি হিন্দু নামধারী। এ ছাড়া কোচবিহার উত্তর, উত্তরপাড়া, খড়গপুর সদর ও চুঁচুড়ার মতো কয়েকটি এলাকাতেও খারিজ হওয়া আবেদনকারীদের মধ্যে হিন্দু নামধারীদের সংখ্যাধিক্য দেখা গেছে। লাখ লাখ আপিলের নিষ্পত্তি হয়নি পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬০ লাখ ভোটারের তথ্য ‘যৌক্তিক অসংগতি’র কারণে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার আওতায় আনা হয়েছিল। পর্যালোচনার পর প্রায় ২৭ লাখ ১৬ হাজার ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পান সংশ্লিষ্ট ভোটাররা। আইও/ |