
|
ওযু ছাড়া ছোট শিশুদের কুরআন স্পর্শে বাধা নেই, কী বলছে ফিকহ?
প্রকাশ:
২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:২৩ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
আওয়ার ইসলাম ডেস্ক ছোট শিশুদের কুরআন শেখানো, হিফজ করানো ও তিলাওয়াতের প্রতি আগ্রহী করে তোলা অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। অনেক সময় দেখা যায়, শিশুরা বড়দের কুরআন তিলাওয়াত দেখে নিজেরাও কুরআন হাতে নিতে চায়। কেউ কেউ ঠিকমতো পড়তে না পারলেও আয়াতের সুর নকল করার চেষ্টা করে। এ সময় অভিভাবকদের মনে প্রশ্ন জাগে, ওযু ছাড়া ছোট শিশুদের কুরআন কারীম স্পর্শ করতে দেওয়া যাবে কি না? কুরআন পড়ার সময় ভুল করলে বা পাতা ওলটপালট করলে তাদের বাধা দেওয়া উচিত কি না? ইসলামি ফিকহের আলোকে এ বিষয়ে অবকাশ রয়েছে। বিশেষত, ছোট শিশুদের কুরআন শেখার সুযোগ অবারিত রাখা। তাদের মধ্যে কুরআনের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। গ্রন্থটিতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, অর্থাৎ, ছোট শিশুদের হাতে কুরআন কারীম তুলে দিতে অসুবিধা নেই। এরপর এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, অর্থাৎ, নিষেধ করার মধ্যে কুরআন হিফজের ক্ষতি রয়েছে। ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়েছে, অর্থাৎ, শিশুদের পবিত্রতা অর্জনের নির্দেশ দেওয়ার মধ্যে তাদের জন্য কষ্ট ও অসুবিধা রয়েছে। আল-বিনায়া শরহুল হিদায়া গ্রন্থের এ আলোচনা থেকে বোঝা যায়, শিশুদের কুরআন শেখা ও হিফজের স্বার্থে ওযু ছাড়া তাদের হাতে কুরআন তুলে দেওয়ার বিষয়ে হানাফি ফিকহে অবকাশ রয়েছে। তবে এ অবকাশকে সব বয়সের মানুষের জন্য ওযু ছাড়া কুরআন স্পর্শের সাধারণ অনুমতি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। চার বছর বয়সী শিশুদের কি গুনাহ হবে? চার বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত বড়দের অনুকরণে বিভিন্ন কাজ শেখে। বাবা-মা বা পরিবারের অন্য সদস্যদের কুরআন তিলাওয়াত করতে দেখলে তারাও কুরআন হাতে নিতে চায়। অনেক সময় তারা শুদ্ধভাবে পড়তে পারে না; শুধু সুর মেলানোর চেষ্টা করে কিংবা পরিচিত কিছু শব্দ উচ্চারণ করে। এ ধরনের বয়সে শিশুদের শরিয়তের বিধিবিধানের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের মতো দায়বদ্ধ ধরা হয় না। তাই তারা না বুঝে ভুল উচ্চারণ করলে বা বড়দের মতো তিলাওয়াতের চেষ্টা করলে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো গুনাহগার হবে না। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের দায়িত্ব হলো, শিশুদের ভুলের জন্য ধমক না দিয়ে ধীরে ধীরে সঠিকভাবে শেখানো। তাদের স্বাভাবিক আগ্রহকে উৎসাহিত করা। কুরআনের সঙ্গে একটি সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করা। শিশুদের কুরআন শেখাতে অভিভাবকদের করণীয় শৈশব থেকেই কুরআনের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হলে পরবর্তী জীবনে তা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাথেয় হতে পারে। এ জন্য অভিভাবকেরা কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন। ১. শিশুদের জন্য আলাদা আমপারা বা নূরানি কায়দা দিন শিশুরা নিজের হাতে কুরআন ধরতে ও পড়ার চেষ্টা করতে পছন্দ করে। তাই তাদের উপযোগী বড় হরফের আমপারা, নূরানি কায়দা কিংবা শিশুদের জন্য প্রস্তুতকৃত কুরআন শিক্ষার বই দেওয়া যেতে পারে। এতে মূল মুসহাফের পাতা ছিঁড়ে ফেলা বা অসতর্ক ব্যবহারের আশঙ্কাও কমবে। ২. ভুল করলে ধমক না দিয়ে সঠিকভাবে শেখান শিশুরা তিলাওয়াতের সময় ভুল করলে তাদের বকাঝকা না করে পাশে বসে সঠিক উচ্চারণ করে দিন। মমতাপূর্ণ কণ্ঠে তাদের সঙ্গে পড়ুন এবং উৎসাহ দিন। এতে তারা আনন্দের সঙ্গে শেখার সুযোগ পাবে। ৩. ছোট ছোট সূরা মুখস্থ করান সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস ও সূরা কাউসারের মতো ছোট সূরাগুলো অল্প অল্প করে শেখানো যেতে পারে। একবারে বেশি মুখস্থ করানোর চাপ না দিয়ে প্রতিদিন সামান্য শেখানোর চেষ্টা করুন। সামান্য অগ্রগতিতেও তাদের প্রশংসা করুন। ৪. নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করে শোনান শিশুরা শুনে শুনে অনেক কিছু শিখতে পারে। তাই অভিভাবকেরা নিয়মিত তাদের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারেন। শিশুরা পাশে বসে শুনলে বা সুর মেলানোর চেষ্টা করলে তাদের উৎসাহিত করুন। ৫. কুরআনের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করুন শিশুদের কুরআন শেখানোকে শাস্তি, ভয় বা জোরজবরদস্তির বিষয় বানানো উচিত নয়। বরং কুরআন শেখার সঙ্গে ভালোবাসা, আনন্দ ও উৎসাহের সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। তাদের বয়স ও সক্ষমতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে শেখানোর ব্যবস্থা করুন। তবে কুরআন কারীমের প্রতি সম্মান বজায় রাখা এবং শিশুদের পরিচ্ছন্নতা ও যত্নের সঙ্গে বই ব্যবহার শেখানোও জরুরি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের পবিত্রতা, আদব ও তিলাওয়াতের নিয়মগুলোও ধীরে ধীরে শেখাতে হবে। অভিভাবকদের মনে রাখা প্রয়োজন, ছোট শিশুদের কুরআন হাতে নেওয়ার আগ্রহ একটি মূল্যবান সুযোগ। ধমক দিয়ে সেই আগ্রহ দমিয়ে না দিয়ে ভালোবাসা ও যত্নের মাধ্যমে তাদের কুরআনের পথে এগিয়ে নেওয়াই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। তথ্যসূত্র: আল-বিনায়া শরহুল হিদায়া, কুরআন কারীম স্পর্শের ক্ষেত্রে ছোট শিশুদের বিধানসংক্রান্ত আলোচনা। এসএইচ/ |