মাদকদ্রব্য বিক্রি করে উপার্জন করা কি জায়েয?
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৩ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

|| মুহিউদ্দীন মাআয ||

দেশে মাদকের অশুভ প্রচলন। আত্মঘাতী মাদকের প্রকাশ্য ব্যবহার প্রতিরোধ করা গেলেও অপ্রকাশ্যে মাদক ব্যবহার বন্ধ করা যেন চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রসাশনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক উৎপাদন, পাচার থেকে শুরু করে বেচাকেনার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। 

এ মরণঘাতী মাদক ব্যবহার বন্ধে রাস্ট্র ও সচেতন সমাজ একযোগে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। মাদকহীন সুন্দর সুসৃঙ্খল সমাজ প্রতিটা সুস্থ নাগরিকের কাম্য। মাদকদব্য ব্যবহার হারাম এটা স্বতসিদ্ধ।

তবে চলুন জেনে নিই, মাদক উৎপাদন ও বেচাকেনার ক্ষেত্রে ইসলাম কী বলে?

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ 
তোমরা পাপকাজ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কঠোর শাস্তিদাতা। {সূরা মায়িদা-২}

ফিকহের বিখ্যাত গ্রন্থ রদ্দুল মুহতার, বাহরুর রায়েক ও মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল মুলহিমে বলা হয়েছে,
যে বস্তু হালাল-হারাম উভয় কাজে ব্যবহার করার সুযোগ আছে তা চাষ ও ক্রয়বিক্রয় জায়েয। তবে হারাম বস্তু বানানো ও বিক্রি করা জায়েজ নয়। 

যেমন কিছু বনজ বস্তু দিয়ে শক্তিশালী মেডিসিন তৈরি করা হয়। আবার সেটা মাদক হিসেবে ব্যবহার হয়। এগুলো চাষ করা জায়েয। তবে কেউ সেটা কিনে মাদক বানালে ও বিক্রি করলে গোনাহগার হবে।

বিষয়টা ছুরি বা চাকুর মতো। এসব সাধারণত ভালো কাজে ব্যবহার হয়। কিন্তু কেউ সেটা অবৈধভাবে ব্যবহার করলে গোনাহগার হবে। তেমনিভাবে আঙ্গুর, খেজুর, কিশমিশ দিয়ে ভালো কাজে ব্যবহার করা যায়। আবার এসব দিয়ে মাদকও তৈরী করা যায়।

সুতরাং যারা আঙ্গুর, খেজুর, কিশমিশ কিনে মাদক বানায়, ছুরি, চাকু কিনে অবৈধ কাজ করে তারা গোনাহগার হবে। কিন্তু যারা এসব চাষ ও তৈরি করে  বিক্রি করে তাদের কাজকে নাজায়েজ বা হারাম বলার সুযোগ নেই।

তবে যদি জানা যায় যে, যারা এটি কিনছে, তারা এটি দিয়ে মাদক তৈরী করবে, তাহলে তাদের কাছে জেনেশুনে এ দ্রব্যগুলো বিক্রি করা মাকরূহে তাহরীমী হবে। ওষুধ কোম্পানীর কাছে বিক্রি করাতে কোন সমস্যা নেই।

সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কঠোর শাস্তিদাতা। {সূরা মায়িদা-২}

লেখক: সাব-এডিটর, আওয়ার ইসলাম

 এমএম