
|
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রিসালাত ও সুন্নাহ অস্বীকারকারীর জানাজার বিধান
প্রকাশ:
২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:০২ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
আওয়ার ইসলাম ডেস্ক ইসলামে ঈমানের মৌলিক ভিত্তিগুলোর অন্যতম হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। তাঁর আনীত নির্দেশনাকে দ্বীনের কর্তৃত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে মেনে নেওয়া। পবিত্র কুরআনের পাশাপাশি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও হাদিস ইসলামের বিধিবিধান বোঝা ও অনুসরণের ক্ষেত্রে অপরিহার্য। এ কারণে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রিসালাত অস্বীকার করা কিংবা তাঁর সুন্নাহর শরয়ি কর্তৃত্ব সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টি ইসলামের আকিদার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। এ প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে: কোনো ব্যক্তি যদি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রিসালাত অস্বীকার করেন অথবা হাদিসকে শরিয়তের দলিল হিসেবে স্বীকার না করেন, তাহলে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় কী হবে? এমন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর জানাজা পড়া, তাঁর জন্য মাগফিরাতের দোয়া করা এবং মুসলিমদের কবরস্থানে দাফন করার বিধান কী? কুরআন-সুন্নাহ ও আলেমদের বক্তব্যের আলোকে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হলো। কোনো ব্যক্তি যদি সত্যিই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রিসালাত অস্বীকার করেন এবং সেই আকিদার ওপর মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে ইসলামের মৌলিক আকিদা অনুযায়ী তিনি মুসলিম থাকেন না। এমন ব্যক্তির জন্য মুসলিমদের জানাজা পড়া, তাঁর জন্য মুসলিম হিসেবে মাগফিরাতের দোয়া করা এবং তাঁকে মুসলিমদের কবরস্থানে দাফন করার বিধান প্রযোজ্য হবে না। কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ইরশাদ করেছেন, مَّن يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ ‘যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল।’ (সূরা আন-নিসা: ৮০) এবং وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا ‘রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।’ (সূরা আল-হাশর: ৭) তাই যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে অস্বীকার করে কিংবা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও হাদিসকে শরিয়তের দলিল হিসেবে সামগ্রিকভাবে অস্বীকার করে, উম্মতের ইজমা অনুযায়ী সে ব্যক্তি ইসলামের গণ্ডি থেকে সম্পূর্ণ বহিষ্কৃত। ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.) তাঁর গ্রন্থে লিখেছেন, فاعلموا رحمكم الله أَن من أنكر كَون حَدِيث النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قولا كَانَ أَو فعلا بِشَرْطِهِ الْمَعْرُوف فِي الْأُصُول حجَّة، كفر وَخرج عَن دَائِرَة الْإِسْلَام وَحشر مَعَ الْيَهُود وَالنَّصَارَى، أَو مَعَ من شَاءَ الله من فرق الْكَفَرَة. روى الإِمَام الشَّافِعِي ‘আল্লাহ তোমাদের প্রতি রহম করুন, জেনে রেখো! যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসকে দ্বীনের দলিল হওয়া অস্বীকার করে, সে ব্যক্তি কাফের, ইসলামের গণ্ডি থেকে বহিষ্কৃত এবং কিয়ামতের দিন তার হাশর হবে ইহুদি ও নাসারাদের সাথে।’ (মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজ বিস সুন্নাহ, পৃ: ৫) ইমাম ইবনে হাযম আন্দালুসী (রহ.) লিখেছেন, "وَلَوْ أَنَّ امْرَأً قَالَ: لَا نَأْخُذُ إِلَّا مَا وَجَدْنَا فِي الْقُرْآنِ لَكَانَ كَافِرًا بِإِجْمَاعِ الْأُمَّةِ" ‘যদি কোনো ব্যক্তি বলে, কুরআনে যা পেয়েছি তা ছাড়া আর কিছুই মানব না (হাদিস মানব না), তবে সে উম্মতের সর্বসম্মত ঐকমত্যে (ইজমা অনুযায়ী) কাফের।’ (আল-ইহকাম ফি উসূলিল আহকাম, ২/৮০) আর এমন ব্যক্তির জানাজা কেউ পড়লে কাজটি শরিয়তবিরোধী এবং না জায়েজ। এসএইচ/ |