সাংস্কৃতির অন্ধানুকরণ ও আমাদের ধর্মীয়চর্চা
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ রাত
নিউজ ডেস্ক

|| মুফতি শেখ মু, নাঈম বিন আ. বারী ||

​সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির বিভিন্ন অসঙ্গতি এবং অন্ধ অনুকরণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বিশেষ করে, বিদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ এবং ইসলাম ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে স্থান, কাল ও পাত্রভেদের বিষয়টি আজ গুরুত্বের সাথে মূল্যায়নের দাবি রাখে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
​আলোচিত বডি বিল্ডার যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রকৃত পিতাই হয়ে থাকেন, তবে সেক্ষেত্রে তাঁর আবেগ বা উত্তেজনা স্বাভাবিক হিসেবেই দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি, হুজুরের স্নেহের বিষয়টিও হয়তো ততোটা জঘন্য ছিল না। তবে সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন আমরা কোনো রাখঢাক না রেখে বিদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে জনসমক্ষে এমন কিছু আচরণ বা অঙ্গভঙ্গি (যেমন: চুমু বা অতিশয় আধুনিক প্রকাশভঙ্গি) প্রকাশ করি, যা আমাদের নিজস্ব সামাজিক প্রেক্ষাপটে শোভনীয় নয়।

​যাঁরা সৌদি আরবের বর্তমান বা আধুনিক সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে জনসমক্ষে চুমু দেওয়ার মতো বিষয়গুলোকে স্বাভাবিক বলে মনে করেন, তাঁদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। কারণ, একটি নির্দিষ্ট সমাজের সংস্কৃতি অন্য সমাজে অসভ্যতা বা সামাজিক শিষ্টাচারবহির্ভূত হিসেবে বিবেচিত হতেই পারে।

সংস্কৃতির দ্বিমুখী নীতি ও সাংঘর্ষিক দৃষ্টিভঙ্গি
​আমাদের সমাজে এক ধরণের দ্বিমুখী নীতি লক্ষ্য করা যায়,যেমন ​দাঁড়ি ও টুপি- অনেকে দাড়ি ও টুপি রাখাকে 'আরবীয় সংস্কৃতি' বলে নাকচ করতে চান। ​চুমু খাওয়া বা অন্যান্য আচরণ- অথচ একই ব্যক্তিরা যখন পশ্চিমা বা ভিনদেশি কোনো সংস্কৃতির অংশবিশেষ বা জনসমক্ষে বিশেষ প্রকাশভঙ্গি গ্রহণ করেন, তখন তা সুন্নাহ বা আধুনিকতা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।


স্থান, কাল ও পাত্রভেদে সংস্কৃতির ভিন্নতা
​সৌদি আরব বা আরব বিশ্বের যেকোনো সংস্কৃতির সবকিছুই যে অন্ধভাবে আমাদের দেশে গ্রহণযোগ্য হবে, এমন কোনো কথা নেই। উদাহরণস্বরূপ-​ কোনো রাস্ট্রে প্রকাশ্যে বা সহজলভ্যভাবে সিগারেট পানের প্রচলন থাকলেও অনেক সমাজ বা রাষ্ট্রে এর ভিন্ন নিয়ম থাকতে পারে। ​সৌদি আরবে নির্দিষ্ট কিছু উপাদান নিষিদ্ধ হওয়ার পেছনে পরিবেশগত কিংবা আইনগত ভিন্ন কারণ কাজ করে, যা স্থানীয় প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভরশীল। সংস্কৃতি এবং জীবনপদ্ধতি সবসময় স্থান, কাল, পাত্র, মাজহাব এবং গোত্রীয় বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন রূপ নেয়। 

সুতরাং, সৌদি আরবের রাজনৈতিক বা সামাজিক ব্যবস্থার অন্ধ অনুকরণে আমাদের দেশের রাজনীতি বা সমাজ পরিচালনা করা অযৌক্তিক। রাজনৈতিক পরিবারগুলোর শাসন ব্যবস্থার সাথে ধর্মীয় অনুশাসনকে গুলিয়ে ফেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
​
​পরিশেষে বলা যায়, ভিনদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ বা কোনো নির্দিষ্ট দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোকে ধর্মের মাপকাঠি বানানো থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
​
চলুন, মদিনার সুন্নাহ ও মূল ইসলামি আদর্শকে সামনে রেখে, স্বীয় মাজহাব ও শরিয়তের মূল ভিত্তিকে অনুসরণ করে দেশ-বিদেশের অন্ধ অনুকরণ বাদ দিয়ে নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে সঠিক পন্থায় ইসলাম পালন করি।
​

লেখক: আমীর: সচেতন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ফেডারেশন