শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ৪ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম :

টাকা দিচ্ছে না ব্যাংক, আটকে আছে মসজিদের নির্মাণ কাজ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ব্যাংক থেকে টাকা প্রদান না করায় অর্থ সংকটে আটকে আছে সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের শিওরখাল উত্তরপাড়া জামে মসজিদের নির্মাণ কাজ। গত ১১ জানুয়ারি মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করার পর ব্যাংক শাখায় গচ্ছিত টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে মসজিদ কমিটির লোকজন হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে তারা অভিযোগ তুলেছেন।

তারা জানিয়েছেন, টাকা উত্তোলনে ব্যাংকে বারবার ধর্ণা দেওয়ার পরও ব্যাংক শাখা কর্তৃপক্ষ চাহিদামতো টাকা প্রদানে অনিহা দেখাচ্ছে। ব্যাংক যে পরিমাণ টাকা প্রদানে সম্মত হয়েছে, সে টাকা দিয়ে মসজিদের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পুনর্নির্মাণ কাজের জন্য পুরনো মসজিদটি ভেঙে ফেলায় মুসল্লিরা অস্থায়ী স্থানে নামাজ আদায় করছেন। এতে মুসল্লিদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃষ্টিপাতের মৌসুম শুরুর আগে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না হলে মুসল্লিরা চরম ভোগান্তির শিকার হবেন। 

জানা গেছে, শিওরখাল উত্তরপাড়া জামে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে স্যোশাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (এস আইবিএল) দক্ষিণ সুরমার বাইপাস রোডস্থ চন্ডিপুল শাখায় বেশ কয়েক বছর আগে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করা হয়। মসজিদ কমিটির পক্ষে তিনজনের যৌথ স্বাক্ষরে এই অ্যাকাউন্টে লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে। অ্যাকাউন্ট চালু করার পর থেকে মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের জন্য সমাজের বিত্তবান লোকজন ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা আর্থিক সহায়তা পাঠাচ্ছেন। কিন্তু ব্যাংক শাখা সেই টাকা প্রদান না করায় বন্ধ রয়েছে নির্মাণ কাজ। এদিকে, ৬ ফেব্রুয়ারি জুমার নামাজের পর নির্মানাধীণ মসজিদস্থলে আয়োজিত এক সভায় ব্যাংক শাখা থেকে মসজিদ পুনর্নিমাণে জমানো টাকা চাহিদামতো উত্তোলন করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রামবাসী।

সভায়  মুসল্লিদের দুর্ভোগ লাঘবে মসজিদের  নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে বিশেষ বিবেচনায় টাকা উত্তোলনের সুবিধা প্রদানে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট  ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানানো হয়। হাজী বাহরাম খান, আছলাম খান ও আতাউর রহমান বলেন, আমাদের তিনজনের নামে এই ব্যাংকে যৌথ অ্যাকাউন্ট করেছি। নির্মাণ কাজের জন্য চাহিদা অনুযায়ী টাকা জমা হয়েছে। এখন মসজিদ নির্মাণ কাজের প্রয়োজনীয় টাকা উত্তোলন করতে গেলে ব্যাংক টাকা প্রদান করছে না। অ্যাকাউন্ট চালু করার সময় লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাংক আমাদেরকে কোনো শর্ত দেয়নি। সম্প্রতি ব্যাংক থেকে বলা হচ্ছে, এখন তারা দুই লক্ষ টাকা প্রদান করবে, পরবর্তী প্রতিমাসে এক লক্ষ টাকা করে উত্তোলন করতে পারবো। তাদের এই শর্ত আমরা মেনে নিতে পারছি না। শিওরখাল উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছমির আলী, আফজল খান, কামিল আহমদ ও ইউনান খান বলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতা আমাদেরকে হতাশ করেছে।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ