আমি ওয়েস্টব্যাংক থেকে বলছি

প্রিয় ডোনাল্ড ট্রাম্প!
আমি এশা আমরো। বয়স ৩৪ বছর। ফিলিস্তিনের একজন মানবাধিকারকর্মী। আমি ইসরাইলের দখলকৃত হেবরনের ওয়েস্টব্যাংক থেকে বলছি। আমি এখানে ‘বসতি স্থাপন বিরোধী যুব সমাজ’ নামক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করি। আমি ও আপনি হাজার কিলোমিটার দূরে বাস করছি। কখনো সাক্ষাৎও হয় নি। কিন্তু ভাগ্য আমাকে আপনার হতে যাওয়া অফিসের প্রতি মনোযোগী করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যে পথ ধরেছেন এবং যে চিন্তা লালন করে তা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক , অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে ইসরাইলকে ক্রমশ ফিলিস্তিনের ভূমিদখল, উগ্র জাতীয়তাবাদ ও জাতিগত বিদ্বেষের ব্যাপারে অব্যাহত সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।
আমি আমার যৌবন ও তারুণ্যকে আমার ভবিষ্যত গঠনে বা বিশ্ব ভ্রমণে ব্যয় করতে পারছি নি। ইসরাইল আমার জাতি ও সমাজকে একটি গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ করে ফেলেছে। রুদ্ধ করে রেখেছে আমার ভবিষ্যত সম্ভাবনাকে। এখন প্রায় প্রতিদিন আমাকে শত্রু ভাবাপন্ন বসতি স্থাপনকারীদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
আমি দীর্ঘ বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে এসেছি। ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীরা প্রায় আমাদের ঘরে ফেরার পথে বাধা দেয়। আমাদেরকে বাজারে যেতে বাধা দেয়। এমনকি আমাদের সন্তানদের স্কুলে যেতে বাধা দেয়। ইসরাইল প্রায় আমাদের পথচলার অধিকার অস্বীকার করে। বসতি স্থাপনকারীরা আমাকেও গালমন্দ করেছে যখন আমি হেবরন গিয়েছিলাম। আমাকে অপমান করেছে। আরও জঘণ্যভাবে আমার জীবনের প্রতি হুমকি সৃষ্টি করেছে।
আমাকে থামিয়ে দেয়া হয়েছে। নিজ বাড়িতে আমাকে তল্লাসি ও মারধর করা হয়। এ বছরের শেষে আমাকে একটি সামরিক আদালতে গুরুতর অভিযোগ মাথায় নিয়ে দাড়াতে হবে। তাহলো বিগত বছরগুলো আমি কতোগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘিত হতে দেখেছি। দোষী প্রমাণিত হলে, আমাকে কয়েক বছর জেল খাটা লাগতে পারে। আমি ভয় করছি, হয়তো আমি আমার জীবনের মূল্যবান সময়গুলো হারিয়ে ফেলবো। আমাকে দেখে অন্যান্য ফিলিস্তিনি যুবকের মন ভাঙ্গবে। যারা অহিংস মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এবং তা আমাদের একান্তই প্রয়োজন।
আমি চাই পৃথিবীতে অনন্য হতে। কিন্তু প্রায় ৭০ বছর লাখ লাখ ফিলিস্তিনি নৃশংস ইসরাইলি বাহিনীর স্বৈরতন্ত্রের অধীনে বসবাস করছে। আমরা খুব সামান্য অধিকারই সংরক্ষণ করি। আমরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদেরও অধিকার রাখি না। বসতি সà§