মাহফুজ আহমদ
আলেম ও কলামিস্ট
সম্প্রতি ইসলাম নিয়ে গবেষণাকারী প্রাচ্যবিদদের কেউ কেউ প্রশ্ন ছুড়ছেন যে, বিদায় হজের খুতবা ছাড়া রাসুল সা. প্রদত্ত অন্যান্য খুতবা কোথায়? বিশেষত তার দেয়া জুমার খুতবাগুলো কোথায়? এ প্রশ্নের নেপথ্য আরেকটি বিষয়।
অর্থাৎ তাদের সংশয় হলো যে, খুতবাগুলো হয়তো বিনষ্ট বা হারিয়ে গেছে! আর এ থেকে তারা এ ফল বের করতে চাচ্ছেন যে, ইসলাম ও ইসলামের নবীর সবকিছু বর্ণিত ও সংরক্ষিত নয়! সুতরাং ইসলামের সত্যতা বা মূল ইসলামের বিদ্যমানতা প্রশ্নবিদ্ধ!
আসল কথা হলো, যেভাবে ইসলাম ও ইসলামের নবীর সবকিছু নিখুঁতভাবে আজ অবধি সুরক্ষিত আছে, হাদিস ও সুন্নতের জ্ঞান যার মাঝে আছে, তার কাছে এসব দিবালোকের মতো স্পষ্ট। তথাপি উত্থাপিত সংশয়ের কী নিরসন, তা আমাদের জানা থাকা দরকার। প্রশ্নের সঠিক উত্তর বোঝতে হলে প্রথমে আমাদের কিছু বিষয় খেয়াল করতে হবে।
ভূমিকাস্বরূপ কয়েকটি কথা
এক. জুমার নামাজ কখন থেকে ফরজ হয়েছে, এ বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, মক্কায় জুমা আদায় করা হয়নি। তাছাড়া পবিত্র কোরআনের ‘সূরা জুমা’ তো মদিনায় অবতীর্ণ সূরাগুলোর অন্তর্ভুক্ত। আর প্রিয় নবী সা. মদিনায় ১০ বছর অবস্থান করেছিলেন।
দুই. নবীজির খুতবাগুলো আজকালকার খতিবদের খুতবার মতো ছিল না। বস্তুত সহিহ হাদিসে বিধৃত হয়েছে, দীর্ঘ নামাজ এবং সংক্ষিপ্ত খুতবা ব্যক্তির ফিকহ বা দ্বীনি সমঝের পরিচায়ক। অর্থাৎ খুতবা নামাজ থেকে সংক্ষিপ্ত হবে এবং কম সময় লাগবে।
তিন. জুমার খুতবা ছিল ওয়াজ তথা নসিহত ও দিকনির্দেশনামূলক। অর্থাৎ এখানে এমন কোনো মৌলিক বিধি-বিধান নেই; যা শুধু খুতবায় আলোচিত হয়েছে এবং পরে অনুল্লেখ থেকে গেছে।
বরং বিধি-বিধান সংক্রান্ত নবীজির সব বাণী, চাই খুতবায় হোক বা অন্য কোনো সময়ে- সব হাদিস গ্রন্থাদিতে সযত্নে উদ্ধৃত হয়েছে। খুতবায় বরং নসিহত ও উপদেশমূলক কথা বেশি বলা হতো এবং সেগুলোও সাহাবায়ে কেরাম স্বাভাবিক হাদিসগুলোর অধীনে বর্ণনা করে দিয়েছেন।
দ্বীন সংরক্ষণ এবং নবীজির খুতবা
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।’ (সূরা হিজর : ৯)।
তাহলে আল্লাহ তাঁর জিকির সংরক্ষণের দায়িত্ব নিজেই নিয়েছেন। তাফসিরবিদদের ভাষ্যমতে, এখানে জিকির কোরআন ও সুন্নত উভয়টাকে শামà¦