আতাউর রহমান খসরু
ভারতের কেরালা রাজ্যের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কডুঙ্গুলুর শহর। ভারতের প্রাচীন ইতিহাসের বইতে যাকে চণ্ডীগর বলা হয়েছে। এ শহরেই অবস্থিত ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীনতম মসজিদ।
এ মসজিদ নির্মিত হয়েছিলো ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে। অর্থাৎ রাসুল সা. এর জীদ্দশায়।
এ হিসেবে ইরাক, সিরিয়া, মিসর ও তিউনিয়ার পূর্বে ভারতে মসজিদ নির্মিত হয়। কেননা ইরাকের প্রথম মসজিদ নির্মিত হয় ৬৩৯ খ্রিস্টাব্দে, সিরিয়ায় ৭১৫ খিস্টাব্দে, মিসরে ৬৪২ খ্রিস্টাব্দে ও তিউনিসিয়ায় ৬৭০ খ্রিস্টাব্দে।
রাসুল সা. এর সাহাবি মালিক ইবনে দিনার রা. নির্মাণ করেন উপমহাদেশের প্রথম মসজিদ। ভারতের প্রাচীনতম মসজিদের নাম চেরমান জুমা মসজিদ।
ধারণা করা হয়, মসজিদে নববীর পর পৃথিবীতে এটি তৃতীয় এবং চিনে নির্মিত হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা. কর্তৃক নির্মিত মসজিদের পর আরব ভূখণ্ডের বাইরে এটি দ্বিতীয় মসজিদ।
চেরমান জুমা মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে চেরমান রাজার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।
কারণ, তৎকালীন চেরমান রাজা এ মসজিদ নির্মাণের ব্যাপারে মালিক ইবনে দিনারকে সহযোগিতা করেন। চেরমান মূলত চণ্ডীগরের শাসকদের উপাধি ছিলো।
চেরমান জুমা মসজিদের নির্মাণের ব্যাপারে নানা কথা পাওয়া যায় স্থানীয়দের কথোকথায়। তবে ঐতিহাসিকদের স্বীকৃতি তথ্য হলো চেরমান রাজা পরিমল রামা ভরমা মুহাম্মদ সা. কর্তৃক চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করণের একজন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন।
রাতের বেলা নিজ প্রাসাদের ছাদে পায়চারি করার সময় রাসুল সা. এর এ মোজেযা দেখে তিনি অভিভূত হন এবং মদিনায় রাসুল সা. এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইসলামগ্রহণ করেন।
ইসলামগ্রহণের পর তার নাম হয় তাজুদ্দিন। তিনি কেরেলায় ইসলাম প্রচারের জন্য মালেক ইবনে দিনার রা. এর নেতৃত্বে একদল সাহাবিকে সঙ্গে নিয়ে স্বদেশের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
কিন্তু ওমানের সিলালাহ নামক স্থানে (যার প্রাচীন নাম পোর্ট জাফর) তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পূর্বে তিনি তার ছেলেকে নির্দেশ দেন মালিক ইবনে দিনারকে সহযোগিতা করতে। তার ছেলে বাবার কথা মান্য করেন। মালিক ইবনে দিনারকে ইসলাম প্রচারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন।