আওয়ার ইসলাম: সিরিয়া-ইসরায়েলের মধ্যে বিরোধ অনেক পুরনো। দুই দেশের মধ্যে অনেকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। তবে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সুযোগে সেখানে প্রভাব বাড়ছে ইরান আর হেজবুল্লাহর, যা উদ্বিগ্ন করে তুলেছে ইসরায়েলকে। সম্প্রতি সেখানে পরস্পরের বিমান ভূপাতিত করার মতো ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সেখানকার এই উত্তেজনা কি আরো বড় আকারে রূপ নিতে পারে?
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এক দশক আগে পূর্ব সিরিয়ার আকবর সামরিক কেন্দ্রে যে বোমা হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েলি ফাইটার জেট, এতবছর ধরে তা অস্বীকার করার পরে এখন তারা স্বীকার করেছে। সেখানে একটি পারমানবিক চুল্লি ছিল বলে মনে করা হতো। কিন্তু এতবছর পরে কেন এখন এই স্বীকারোক্তি?
ইসরায়েলি চিফ অফ স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্যাডি আইজেনকট বলেন, ২০০৭ সালে সিরিয়ায় ওই হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে এই বার্তা দেয়া যে, ইসরায়েল এই অঞ্চলে এমন কোন কর্মকাণ্ড সহ্য করবে না, যা আমাদের দেশের অস্তিত্বকে হুমকিতে ফেলতে পারে। ১৯৯৮ সালে আমরা যখন ইরাকের আণবিক কেন্দ্রে বোমা হামলা করি, তখনো এই বার্তাই দিতে চেয়েছি। ভবিষ্যতেও আমাদের শত্রুদের এই বার্তাই দেয়া হবে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে যে, সিরিয়ায় নানা কর্মসূচীর সঙ্গে ইরানের যোগাযোগ রয়েছে। ইরানের সহায়তা সিরিয়া আণবিক অস্ত্র বানাতে পারে বলে ইসরায়েলের আশংকাও বেড়েছে। সম্প্রতি সিরিয়ায় সরকারি আর ইরানি লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বিষয়ক একটি সাময়িকীর বিশ্লেষক অ্যামে সারেল বলেন, সাতবছর ধরে সিরিয়ার সংঘাত থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেছে ইসরায়েল, কিন্তু এখন সে জড়িয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, এখন যুদ্ধের ভিন্ন একটা অধ্যায় শুরু হয়েছে। সত্যি কথা বলতে, আসাদ সরকার এই যুদ্ধে জয়ী হতে চলেছে। কিন্তু যারা আসাদকে জয়ী হতে সহায়তা করেছে, তারা ইসরায়েলের জন্য হুমকি হতে পারে। বিশেষ করে এই অঞ্চলে ইরানের উপস্থিতি বাড়ছে, তাদের মিলিশিয়ারা নানা ঘাটি তৈরি করে থাকছে। ইসরায়েলের জন্য আরেকটি বড় হুমকি হতে পারে হেজবুল্লাহ।
সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর সঙ্গে মিলে বিদ্রোহী বাহিনী আর ইসলামিক স্টেট গ্রুপের বিরুদ্ধে লড়াই করছে হেজবুল্লাহও।