শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
গাড়ির ক্ষতির খবরেও হাসিমুখে কাশ্মীরি যুবক, বললেন ‘আল্লাহর ইচ্ছা’ কাল আসছে রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি, পৌঁছাবে শনিবার সেপ্টেম্বরে ৩৪ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয় দেশে দেশে ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল ও সময় জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর হাফপ্যান্ট পরায় মিলল না সাড়া, প্রতিবাদে এলেন মাত্র ৩ জন! শিবপুরে বিকেএমের সদস্য প্রশিক্ষণ মজলিস অনুষ্ঠিত অক্টোবর মাসকে ‘বায়তুল মাল মাস’ ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের আস-সুন্নাহর সহায়তায় নওমুসলিম আব্দুর রহমান এখন ছয়জনের কর্মসংস্থানের উদ্যোক্তা জাতীয় তাফসির প্রতিযোগিতায় ব্যাপক সাড়া, ১০ অক্টোবর ৮ বিভাগে লিখিত পরীক্ষা আল-আকসায় ১০ হাজারের বেশি ইসরায়েলির তাণ্ডব

কুরবানির পশু বনাম মনের পশু: একটি বিভ্রান্তির নিরসন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ত্বরিকুল ইসলাম
রাজনৈতিক বিশ্লেষক

কুরবানির পশু নিয়ে আমাদের অনেকের মধ্যে একটা জঘন্য বিভ্রান্তি বিরাজ করে। অর্থাৎ, বনের পশু কুরবানি দেওয়ার সঙ্গে মনের পশুকেও কোরবানি দেওয়ার কথা বেশ বলতে শুনি।

অনেকেই কুরবানির ঈদবিষয়ক ছড়া লেখার সময় অনুপ্রাসের ঝঙ্কার দেখাতে গিয়ে অজ্ঞতাবশত বনের পশুর সাথে মনের পশুকেও কুরবানি দিয়ে বসে থাকেন, যা কুরবানির মূল তাৎপর্য, ইতিহাস ও পবিত্রতার বিকৃতি এবং অবমাননা। এমন ভাবনা অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর।

এমনকি দুঃজনকভাবে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এমন বিভ্রান্তি থেকেই তার ‘শহিদি ঈদ’ কবিতায় লিখেছিলেন: ‘মনের পশুরে করো জবাই / পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই / কসাইয়ের আবার কুরবানি।’

নজরুল যা বুঝাতে চেয়েছেন এই পঙক্তিগুলোতে, তা হলো: মনের পশুকে কুরবানি দেওয়া হোক। এবং বনের পশুকে জবাই না করে বাঁচতে দেওয়া হোক। আর যারা গরু বা পশু জবাই করে কুরবানি দেয়, তাদের তিনি ব্যঙ্গ করেছেন। নজরুলের কাছ থেকে এমনটা ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত!

প্রকৃতপক্ষে মনের পশুর সাথে কুরবানির পবিত্র পশুর কোনো সম্পর্ক নাই। মনের পশুত্ব মানে নফস বা খারাবি বা রিপুবিশেষ; প্রতীকী অর্থে আমরা ‘মনের পশু’ বলি। অথচ আল্লাহ তায়ালা আমাদের পিতা হযরত ইবরাহিম আ.-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন তার সবচে প্রিয় বস্তু আল্লাহর জন্য কুরবানি করতে।

আমরা জানি, তিনি তার প্রিয় বস্তুকে কুরবানি দিয়েছিলেন; কিন্তু আল্লাহ তায়ালার অশেষ কুদরতে তার প্রিয় পুত্রের বদলে জান্নাতি দুম্বা কুরবানি হয়ে যায়। তাহলে এখানে কুরবানির ইতিহাসে মনের পশুর প্রসঙ্গ কীভাবে আসে আমি জানিনা।

ব্যবসা নিয়ে দুশ্চিন্তা আর নয়-  ক্লিক 

মনের প্রতীকী পশু তো আপনার আমার প্রিয় বস্তু হতে পারেনা, বরং এটা অপবিত্র ও পরিত্যাজ্য একটা বিষয়। আর কুরবানির পশু হলো অত্যন্ত পবিত্র ও প্রিয় একটি বস্তু, যা আল্লাহকে উৎসর্গ করার জন্য প্রস্তুত করা হয়।

তাহলে কি আমরা প্রিয় ও পবিত্র কুরবানির পশুর ওপর নিজের মনের ঘৃণিত পশুত্বকে আরোপ করে কুরবানির পশুর পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করছি না? এভাবে আল্লাহর প্রতি নিজের কুরবানি বা উৎসর্গকে কলুষিত করছি না?

আর তাছাড়া মনের পশুত্বকে দমন করতে হয় নিজেকে পরিশুদ্ধ