জাস্টিস আল্লামা তাকি উসমানি
মুসলিম স্কলার ও পাস্তিানের সাবেক বিচারপতি
নির্বাচনী কর্মতৎপরতা, প্রচারণা ও হাঙ্গামা আমাদের সমাজে অসংখ্য অন্যায়-অপরাধের এমন প্লাবন নিয়ে আসে যার নিকষ-কালো আঁধারে সমগ্র পরিবেশ-প্রকৃতি অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়! এ তৎপরতা ও ঝামেলা শরিয়ত, আখলাক, ভদ্রতা ও মানবতার ভিত্তিমূলে ধারাবাহিকভাবে এমন চপেটাঘাত করে যার ফলে পুরো দেশ ও জাতি আলোড়িত হয়।
এসব অন্যায়-অপরাধ ও গুনাহের নিতান্ত পরিতাপজনক দিক হলো, অন্তরে এসব অপরাধ গুনাহ হবার অনুভব পর্যন্ত থাকে না এবং ক্ষমতা লাভের অন্ধ দৌড়ঝাঁপ সবকিছুকে বৈধ করে দেয়!
আর যেহেতু সমাজে এসব অন্যায় অপকর্ম কোনো বাধা-বিপত্তি ছাড়াই এতটা ব্যাপক হয়ে গিয়েছে তাই এখন কোনো ব্যক্তি এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ পর্যন্ত খোলে না। এ জন্য সেসব সুশীল এবং অভিজাত ব্যক্তিদের মনেও এসব অন্যায়-অকল্যাণকর বিষয় গুনাহ হবার খেয়াল পর্যন্ত আসে না, যারা জেনে বুঝে মন্দ কর্মে জড়াতে চান না।
এ জন্য আজ আমি এমন কিছু মন্দ ও অহিতকর বিষয় নিয়ে এই আগ্রহে আলোচনা করব যে, যেসব আল্লাহর বান্দা এগুলো হতে বাঁচতে চায় তারা যেন বাঁচতে পারে এবং অন্য লোকদের মনেও কমপক্ষে এতটুকু অনুভব সৃষ্টি ও উদয় হয় যে, এগুলো গুনাহ এবং অন্যায় কাজ।
এক. নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবার কারণে আমাদের সমাজে যে গুনাহ ও অন্যায়কর্ম বিস্তার লাভ করেছে সেগুলোর মৌল ভিত্তি হলো ক্ষমতার লিপ্সা এবং পদ লাভের অপ্রতিরোধ্য মোহ। এর বৈধতা অনুসন্ধান করার জন্য কোনো কোনো সময় দেশ ও জাতির কল্যাণকামনার নিষ্পাপ অভিব্যক্তি ব্যক্ত করা হয়।
অথচ রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ করার ব্যাপারে কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা হলো, এটা ফুলের কোনো তোড়া নয়, যা লাভ করার জন্য একে অন্যের চেয়ে অগ্রগামী হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। বরং এটা দুনিয়া ও আখেরাতের ওই জুয়াল যা নিজের স্কন্ধে রাখার পূর্বে মানুষের কম্পিত হওয়া উচিত এবং অত্যধিক অপারগ না হলে নিজেকে এই পরীক্ষায় না ফেলা উচিত।
এ কারণেই হযরত উমর রা. কে যখন তার স্থলাভিষিক্ত খলিফা হিসাবে নিজের সন্তান হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. এর নাম উল্লেখ করতে অনুরোধ করা হয় তখন তিনি এর একটি জবাব এও দিয়েছিলেন, ‘রাষ্ট্রক্ষমতার শৃঙ্খল খাত্তাব পরিবারের মধ্যে কেবল এক ব্যক্তির (হযরত উমর রা.) গলায়ই পরানো হয়েছে। আর এটাই যথেষ্ট। আমি আমার সন্তান