আওয়ার ইসলাম: সম্প্রতি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক) এর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন মাওলানা মাহফুজুল হক। শর্ত মোতাবেক রাজনীতি ছাড়তে হয় তাঁকে। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দীর্ঘ সাত বছর যাবত মহাসচিব ছিলেন। রাজনীতি ছেড়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।
গতকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে রাজনীতি ছেড়ে এ পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। এ সময় এক আবেগঘন বিদায়ী বক্তব্য দেন মাওলানা মাহফুজুল হক। বক্তব্যে তিনি বলেন,
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।
মুহতারাম, অন্যায়ের প্রতিবাদ, বাতিলের মোকাবিলা ও আল্লাহর দ্বীনের মর্যাদা সমুন্নত করার লক্ষ্যে তৎপরতা পরিচালনা ও প্রয়োজনে সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করা একজন মুমিনের ঈমানী দায়িত্ব। সংগ্রামমুখর এই ময়দানে সফলতা পেতে হলে সংঘবদ্ধতার কোনো বিকল্প নেই। আর সফল সংঘবদ্ধতা নেতৃত্ব ও আনুগত্যের শৃঙ্খলা ছাড়া প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয়।
ইসলামের এ ঐতিহাসিক প্রয়োজন পূরণে শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রাহিমাহুল্লাহ সমকালীন বরেণ্য আরো কিছু ইসলামী ব্যক্তিবর্গকে সঙ্গে নিয়ে ১৯৮৯ সালের ৮ই ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। প্রায় সূচনাকাল থেকেই আল্লাহর দ্বীনকে ভালোবেসে ইসলামের গৌরব সমুন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে আমিও শামিল হয়েছিলাম ঈমানদীপ্ত এই কাফেলায়।
অন্যান্য দ্বীনী কর্মকান্ড পরিচালনার পাশাপাশি বালাদেশ খেলাফত মজলিসের কাজে প্রায় তিন দশক যাবত সংশ্লিষ্ট আছি। দীর্ঘ দিন পর্যন্ত তৃণমূল পর্যায়ে থেকেই আল্লাহর তৌফিক অনুযায়ী ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। এক পর্যায়ে সংগঠনের প্রায় সকল দায়িত্বশীল আমাকে সংগঠনের মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত করেন। আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনেকটা জোর-পূর্বক এই বিশাল দায়িত্বের বোঝা চেপে বসে আমার কাঁধে।
হাজারো সীমাবদ্ধতা আর অযোগ্যতা সত্বেও দায়িত্ব অর্পিত হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি আমি এই মহান আমানতের যিম্মাদারী পালনে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। চেষ্টা করেছি সংগঠন ও আন্দোলনের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখার। দেশ ও প্রবাসের সকল শাখা ও জনশক্তিকে সাথে নিয়ে সংগঠনকে গতিশীল, সম্প্রসারিত ও মজবুত করার প্রয়াস পেয়েছি। সেইসঙ্গে দেশ-জাতি ও ইসলামের পক্ষে যেকোনো প্রয়োজনে সংগঠনকে নিয়ে ময়দানে ভূমিকা পালনà