মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮


শবে বরাত: ফজিলত, আমল ও বিদআত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি জাকারিয়া মাসউদ।।

ভারত উপমহাদেশে শবে বরাত নিয়ে রয়েছে ঘোর অন্ধকার, নানাবিধ মতে আচ্ছন্ন আসুন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সঠিক সিদ্ধান্ত প্রমাণ সহ জেনে নেই।

১৪ শাবানের দিবাগত রাত হচ্ছে লাইলাতুল বারাআত; ফার্সিতে শবে বরাত বলা হয়। শবে বরাত নিয়ে আমাদের দেশে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি রয়েছে। একপক্ষ শবে বরাতের ফজিলতকেই অস্বীকার করে। আরেক পক্ষ শবে বরাত নিয়ে বাড়াবাড়ি করে। শবে বরাতকে শবে কদরের পর্যায়ে নিয়ে যায়। সমান গুরুত্ব দেয়; সমান ফজিলত মনে করে।

শবে বরাত নিয়ে কিছু আলোচনা করি। এ বিষয়ে কিছু বিদআত ও কুসংস্কারও জানা দরকার। কারণ, আমলের পাশাপাশি বিদআত ও কুসংস্কার হতে বিরত থাকা আবশ্যক।

শবে বরাতের আরও নাম

শাবানের পনেরতম রাত্রির কয়েকটি নাম রয়েছে। ১. لَيْلَةُ الْمُبَارَكَةِ: বরকতপূর্ণ রাত। ২. لَيْلَةُ الرَّحْمَةِ : আল্লাহর বিশেষ রহমত অবতীর্ণ হওয়ার রাত। ৩. لَيْلَةُ الصَّكِّ : প্রমাণপত্রের রাত। ৪. الْبَرَاءَةِ لَيْلَةُ : জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ ও নিষ্কৃতি পাওয়ার রাত।

তবে সাধারণ মানুষেরা এই রজনীকে ‘শবে বরাত’ বলে থাকে। ‘শব’ ফারসি শব্দ। অর্থ- রজনী বা রাত। আর ‘বরাত’ আরবি শব্দ। অর্থ- মুক্ত হওয়া, নাজাত পাওয়া। যেহেতু পবিত্র এ রাতে আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমতে অগণিত-অসংখ্য মানুষ জাহান্নাম থেকে মুক্তি পায়, এজন্য এ রাতকে ‘শবে বরাত’ বলে। এটা শাবানের পনেরতম রাত্রি (চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত)।

শবে বরাতের ফজিলত

নিচের হাদিসগুলোর মাধ্যমে শবে বরাতের ফজিলত জানতে পারব এবং শবে বরাতে কী হয়, তাও জানা যাবে। শবে বরাতেও আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করে বান্দাদেরকে ডাকতে থাকেন।

পবিত্র শাবান মাসের একটি রাত আছে যা অত্যন্ত বরকতপূর্ণ ও পুণ্যময়। একজন বিখ্যাত তাবেয়ির উক্তি দেখুন:
عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ: مَا مِنْ لَيْلَةٍ بَعْدَ لَيْلَةِ الْقَدْرِ أفْضَلَ مِنْ لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ.
“হযরত আতা ইবনে ইয়াসার রা. বলেন, লাইলাতুল কদরের পর শাবানের পনেরতম রজনীর চেয়ে মর্যাদাময় কোনো রজনী নেই।
(লাতায়েফÑ১৪৫, হাদিস নং- ১৩০৫; شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة للالكائي : ২/২৫৫)

“হযরত আয়েশা রা. নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনÑ তোমরা কি জান ১৫ই শাবানের রাতে কী হয়? হযরত আয়েশা রা. বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! সে রাতে কী হয়? প্রত্যুত্তরে হুজুর সা. বলেন, এ রাতে সেসব নবজাতকদের নাম লেখা হয়, যারা এবছর জন্ম নিবে। এ বছর কারা মৃত্যুমুখে পতিত হবে তাদের নামও লেখা হয়। এ রাতে বান্দাদের একবছরের আমল আল্লাহর দরবা