মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮


মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা ও তার আহকাম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী।।

মাহে রমযানুল মুবারক আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের অফুরন্ত রহমত নিয়ে আমাদের কাছে আসে, শ্রাবণের বৃষ্টি ধারার মত বর্ষিত হতে থাকে সেই রহমত। আল্লাহর মকবুল বান্দারা সারা মাস ব্যাপী সেই বৃষ্টি ধারায় স্নাত হতে থাকে। এই মুবারক মাসে মানুষ নিজের পাশবিকতা দমন, নফ্সের কামনা-বাসনা ত্যাগের শক্তি সঞ্চয় করতে পারে, আর এটিই হল তাক্বওয়ার ভিত্তি। এই মাসের উচ্চ মর্যাদা এ একটি কথা থেকেও প্রতিভাত হয় যে, আল্লাহ্ তাআলা এই মাসটির নামকরণ করেছেন নিজের একটি নামের সাথে সম্পৃক্ত করে। (তাজুল আরূস)।

রোযার ইতিহাস সুদীর্ঘ। আগেকার উম্মতগণও যে রোযা রেখেছেন এবং তাদের উপরও যে রোযা ফরয ছিল কুরআন মাজীদের নিুোক্ত আয়াত হতে বুঝা যায়। আল্লাহ্ তাআলা বলেন “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর (রমযানের) রোযা ফরয করা হল, যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর, যাতে তোমরা পরহেযগার হতে পার।” রূহুল মাআনী, আল্ বিদায়া ওয়ান্ নিহায়া এবং আইনী প্রভৃতি তাফ্সীর ও হাদীসের ব্যাখ্যা গ্রন্থসমূহে বলা হয় যে, কুরআনের বাক্য “তোমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর” বলে বুঝানো হচ্ছে- হযরত আদম (আ.) থেকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সকল যুগের মানুষ অর্থাৎ- সকল নবীর শরীয়তে রোযা পালনের বাধ্যবাধকতা ছিল নামাযের মতই। হযরত আদম (আ.)এর যুগে প্রতি মাসে তিনটি রোযার হুকুম ছিল, হযরত মূসা (আ.)এর শরীয়তে মুহাররামের দশ তারিখে রোযা রাখার আদেশ ছিল, হযরত দাঊদ (আ.) একদিন পর একদিন রোযা রাখতেন।

হযরত মরিয়াম (আ.) সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, তিনি বলেন- “আমি আল্লাহ্র জন্য রোযার নিয়্যাত করেছি।” (সূরা মরিয়ামঃ ২৬)। তাফ্সীরে হক্কানীতে তাওরাত শরীফ অর্থাৎ বাইবেলের পুরাতন নিয়মের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয় যে, ইহুদীগণের উপর সপ্তম মাসের দশ তারিখে কাফ্ফারার রোযা রাখা ওয়াজিব ছিল। প্রাচীন খ্রীস্টানেরাও সেই রোযা রাখত বলে প্রকাশ। হযরত মূসা (আ.) তুর পর্বতে চল্লিশ দিন রোযা রেখেছেন, হযরত দানিয়াল (আ.) একাধারে তিন সপ্তাহ রোযা পালন করেছেন বলে প্রকাশ। বাইবেল থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ইহুদী-খ্রীস্টানেরা এছাড়া আরও রোযা রাখত। বর্তমান যুগেও তাদের ধর্মপরায়ণ লোকেরা বছরের বিভিন্ন সময়ে রোযা পালন করে আসছে।

আগের শরীয়তসমূহে রমযান মাসের ত্রিশটি রোযা ফরয ছিল কি-না এ প্রশ্নের উত্তরে মুফাস্সির ও ঐতিহাসিকগণের ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। কেউ বলেন, à