শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ ।। ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৭ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
প্রাথমিকে সংগীত, নাট্যকলার পরিবর্তে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জাতীয় শিক্ষক ফোরামের দিন-রাত দুই শিফটে কাজ করবেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা: ডিএনসিসি প্রশাসক বিভ্রাটের প্রায় একঘণ্টা পর সচল ফেসবুক-ম্যাসেঞ্জার আমি ক্ষমতায় থাকতে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেব না: নেতানিয়াহু  হিল্লা বিয়ে ইসলামের নিকৃষ্ট অপব্যাখ্যা: শায়খ আহমাদুল্লাহ শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী ফেসবুক ডাউন, ভোগান্তিতে ব্যবহারকারীরা  কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড, পুড়ল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ঢাকাসহ দেশের ১৩ অঞ্চলে ৪৫-৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস প্রাথমিকে ‘সংগীত-নৃত্যের সিদ্ধান্ত’ বাতিলের দাবি ছাত্র জমিয়তের

মাদারীপুরে গরম হাওয়া ৩৯ হেক্টর জমির ধানের ক্ষতি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: মাদারীপুরে বোরো মৌসুমের প্রায় ৩৯ হেক্টর ধানের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন শত শত কৃষক।

স্থানীয় কৃষি দপ্তর বলছে, গরম হাওয়ার কারণে এই ক্ষতি হয়েছে। তারা কৃষকদের সহযোগিতার জন্য সরকারি প্রণোদনা চেয়েছে।

গত ৬ এপ্রিল বিকেল থেকে রাত পর‌্যন্ত কালবৈশাখীর তাণ্ডবের সঙ্গে গরম হাওয়া বয়ে যাওয়ার পর থেকেই এসব ক্ষেতের ধানের শীষ শুকিয়ে পচে সাদা আকার ধারণ করে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক স্থানে ধানের পাতাসহ পুরো ধান কালো হয়ে গেছে। ফলে এসব জমির ধানে চিটা ধরে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

মাদারীপুর কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মাদারীপুর জেলার চারটি উপজেলার ৩৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। কালবৈশাখীর সঙ্গে গরম হাওয়া বয়ে যায়। এ সময় ওই গরম হাওয়ায় এসব ধানের ফুল ঝরে নষ্ট হয়েছে।

এছাড়া যে সব ধানে এখনো কোনো ধান পুরোপুরি আসেনি সেই ধানগুলোর গাছ পুরো কালো হয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির ওপরে থাকায় এ ধরনের সমস্যা হয়েছে। এতে মাদারীপুর জেলার চারটি উপজেলার ৩৯ হেক্টরেরও বেশি জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে।

মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর এলাকার কৃষক মোতালেব হাওলাদার জানান, ঝড়ের সঙ্গে বয়ে গেছে গরম হাওয়া। কোথাও কোথাও ঝড়ের সঙ্গে হয়েছে শিলাবৃষ্টিও। ফলে নষ্ট হয়ে যাওয়া এসব ক্ষেতের ধানের ফুল ঝরে ও শুকিয়ে কোথাও কালো আবার কোথাও সাদা আকার ধারণ করেছে।

ডাসার থানার বালীগ্রাম এলাকার কৃষক আবু কালাম জানান, বছরে একবার আমরা ধান রোপন করি কিন্তু সেগুলোও যদি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।’ এমনিতেই ধান করতে অনেক খরচ, বিক্রির সময় দাম থাকে না। তাছাড়া খরচ বেশি হলেও চিন্তা করি বছরের খাবারটা যদি ঘরে রাখা যায় অন্তত লবণ দিয়ে হলেও ভাত খাওয়া যাবে।’

সদর উপজেলার ঘটমাঝি এলাকার সমসের বলেন, আমি প্রতিবছর ৩শ থেকে ৫শত মণ ধান ঘরে তুলতে পারি এবার তার অর্ধেকও মনে হয় নিতে পারবো না। আমার জমির বেশীর ভাগ ধান আগুনে পুড়লে যেমন হয় তেমন হয়ে গেছে।

মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, কালবৈশাখী ঝড়ের পরদিন থেকে এ পর্যন্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে সরেজমিন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জেলায় ওই ঝড়ের সঙ্গে গরম হাওয়ায় ৩৯ হেক্টর জমির ধানের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা গেলেও ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির ওপরে গেলে ধানের ফুল ঝরে এ ধরনের ক্ষতি হয়। এ ছাড়া বেশকিছু মৌসুমী ফসলের ক্ষতি হয়েছে। আমরা সরকারি সহযোগিতা চেয়েছি কৃষকদের জন্য যদি আসে তাহলে সেগুলো আমরা কৃষকদের বিতরণ করবো। কৃষকদের পরমর্শ দেয়া হচ্ছে।

এনটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ