মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দিন শেষ হয়ে এলে  এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় ২৫–২৯ অক্টোবর টঙ্গীতে ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে সহোদরসহ ৪ শিশুর মৃত্যু   সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ রিয়াদে হামলার নিন্দা, ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের উচ্চস্বরে আজানের অভিযোগে ভারতে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার, মাইক জব্দ উগ্রবাদ মোকাবিলায় শুধু নিন্দা নয়, সচেতন মন গঠন জরুরি: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা মদিনায় ইফতার সরবরাহে ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের আবেদন আহ্বান

সাদাকাতুল ফিতরের বিধান ও তাৎপর্য

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতী এইচ এম আবু বকর সিদ্দীক।।

সাদাকাতুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, প্রত্যেক মুমীনের জন্য এটি আবশ্যকীয় আমল, যা পবিত্র রমযানের শেষে ঈদুল ফিতরের দিন আদায় করতে হয়। এটি যাকাতেরই একটি প্রকার। পবিত্র কুরআন এদিকে ইশারা করে বলেছে, "নিঃসন্দেহে তারা সফলকাম হয়েছে যারা পরিশুদ্ধ করে নিয়েছে এবং তাদের প্রতিপালকের নাম স্মরণ করনান্তে সালাত আদায় করেছে"। (সূরা আ'লা, ১৪-১৫) এখানে নিজের আত্মা এবং মালকে সবরকম কলুষতামুক্ত করার পরেই সালাত আদায়ের আদেশ করা হয়েছে।

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস ও সুন্নাহও সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছে এবং এর নিয়ম-নীতি বাতলে দিয়েছে। এ কারণেই নবী যুগ থেকে আজ পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহ ইসলামের পাঁচ রোকন ও দ্বীনের অন্যান্য মৌলিক আমল ও ইবাদতের মতো ছদাকাতুল ফিতরও নিয়মিত আদায় করে আসছে।

সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব কেন:

সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব করার রহস্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে চিন্তাবিদগণ এই হাদীসটি সামনে নিয়ে এসেছেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. সূত্রে বর্ণিত হাদীসটিতে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদাকাতুল ফিতরকে অপরিহার্য করেছেন। অর্থহীন, অশালীন কথা ও কাজে রোযার যে ক্ষতি হয় তা পূরণের জন্য এবং নিঃস্ব লোকের আহার যোগানোর জন্য। (সুনানে আবু দাউদ ১/২২৭)

সুতরাং এখানে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে সাদাকাতুল ফিতর রোজার ভুল ত্রুটি মোচনের অন্যতম উপায়। সকলের কর্তব্য হচ্ছে আন্তরিকতার সাথে এই ইবাদতটি আদায় করা, যাতে আল্লাহর দরিদ্র বান্দাদের সহযোগিতা হয় এবং নিজের রোযার ত্রুটি-বিচ্যুতির ক্ষতিপূরণ হয়। সর্বোপরি মহান আল্লাহ পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি ইবাদত আদায়ের সৌভাগ্য অর্জিত হয়।

সাদাকাতুল ফিতর কার ওপর ওয়াজিব:

প্রসিদ্ধ ফতোয়াগ্রন্থ ‘ফতোয়া আলমগীরী’ এর প্রথম খণ্ডে উল্লেখ আছে, মৌলিক চাহিদার অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ (সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ কিংবা সাড়ে ৫২ তোলা রূপা) সম্পদের অধিকারি প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর উপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। সোনা রূপার চলমান বাজার দেখে দাম নির্ণয় করে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে যেটার মূল্য হিসেব করলে দরিদ্রদের জন্য সহায়ক হবে সেটা হিসেবে সাদাকাহ বের করতে হবে। নাবালক ছেলেমেয়ের পক্ষ থেকে বাবা কিংবা তাদের দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে ফিতরা আদায় করতে হয়। এবং এই সাদাকাহ তারাই গ্রহণ করতে পারবে যারা যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত।

এনটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ