জামীল আহমাদ
ইসলাম ও মুসলমানদের ব্যাপারে ইহুদি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায় সব সময় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকতো। সে প্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা মুসলমানদেরকে তাদের ঈমানের বিদ্বেষ পোষণকারী চক্রান্তকারীদের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইয়াহুদি ও নাসারাগণ প্রতিনিয়ত এ অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে যে, তোমাদেরকে তাদের মতাদর্শের রঙে রঙিন করে দিবে।
খ্রিস্টানরা বলতো আমাদের এক প্রকার রঙ আছে যা মুসলমানদের নেই। তাদের স্থিরকৃত রং ছিল হলুদ। তাদের নিয়ম ছিল, যখন কোনো শিশুর জন্ম হতো, অথবা কেউ যখন তাদের দ্বীনে দীক্ষিত তখন তাকে সে রঙে ডুব দেয়ানো হতো।
তারপর তারা বলতো এবার সে খাঁটি খ্রিস্টান হয়ে গেল। আল্লাহ বলেন দিলেন, হে মুসলমানগণ! তোমরা বলে দাও, তাদের পানির রং ধুলে তা শেষ হয়ে যায়। ধোয়ার পর এর কোনো প্রভাব বাকি থাকে না। বরং প্রকৃত রং তো হলো আল্লাহর দ্বীন ও মিল্লাতের রং; আমরা আল্লাহর দ্বীনকে গ্রহণ করেছি। এ দ্বীন যে গ্রহণ করে সে সর্ব প্রকার মলিনতা থেকে পবিত্র হয়ে যায়।
দ্বীনকে রং বলে এ দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, রং যেরূপ চোখে অনুভব করা যায়; অনুরূপ মুমিনের ঈমানেরও আলামত রয়েছে, যা তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ এবং সকল কাজ-কর্মে ফুটে উঠা উচিত। আল্লাহ তাআলা কোরআনে বান্দাদের তার রঙে রঙিন হওয়ার আদেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন- তোমরা বলো, আমরা গ্রহণ করেছি আল্লাহর রং। আল্লাহর রঙের চেয়ে কার রং উত্তম? এবং আমরা তাঁরই ইবাদত করি। (সুরা বাকারা: ১৩৮)
ক্ষণস্থায়ী এ পৃথিবীতে মানুষের হায়াত খুবই অল্প। এ সময়ে মানুষের কর্তব্য কী? আল্লাহতায়ালাই ঘোষণা করছেন- ‘সময়ের শপথ, নিশ্চয় মানুষ ক্ষতির মধ্যে আছে, কিন্তু (তারা নয়) যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে এবং যারা পরস্পরকে সত্যের তাকিদ দিয়েছে ও পরস্পরকে ধৈর্যের সবক দিয়েছেন (সুরা আসর)। অর্থাৎ বিশ্বের সব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে যদি তারা আল্লাহর নির্দেশিত পথে পরিচালিত না হয়। আল্লাহর রঙে রঞ্জিত না হয়।
তাছাড়া রোজার সামগ্রিক শিক্ষাও এটি। মানুষের ঈমান আমলের সংশোধন, ব্যক্তিজীবনে তার প্রতিফলন, পরোপকার ও হিতকামী মনন ও দুঃখ-কষ্টে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ঈমান রাখা এগুলোর প্রশিক্ষণই নিতে হয় রমজানে। রোজায় নিজের দেহ ও মনকে পূর্ণভাবে আল্লাহর রঙে রাঙিয়ে নিতে হবে।
নবীজি (সা.) বলেন, তোমরা আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হও। আল্লাহর রং বা গুণ কী? তা হল আল্লাহতায়ালার গুণবাচক ৯৯ নাম। আল্লাহর নামাবলী আত্মস্থ করার বা ধারণ à¦