শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ ।। ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৬ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
প্রাথমিকে সংগীত, নাট্যকলার পরিবর্তে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জাতীয় শিক্ষক ফোরামের দিন-রাত দুই শিফটে কাজ করবেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা: ডিএনসিসি প্রশাসক বিভ্রাটের প্রায় একঘণ্টা পর সচল ফেসবুক-ম্যাসেঞ্জার আমি ক্ষমতায় থাকতে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেব না: নেতানিয়াহু  হিল্লা বিয়ে ইসলামের নিকৃষ্ট অপব্যাখ্যা: শায়খ আহমাদুল্লাহ শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী ফেসবুক ডাউন, ভোগান্তিতে ব্যবহারকারীরা  কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড, পুড়ল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ঢাকাসহ দেশের ১৩ অঞ্চলে ৪৫-৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস প্রাথমিকে ‘সংগীত-নৃত্যের সিদ্ধান্ত’ বাতিলের দাবি ছাত্র জমিয়তের

উত্তর-পূর্ব ইতালির ভেনিস যখন মুসলিম পদচারণে মুখর ছিল

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: উত্তর-পূর্ব ইতালির ভেনেতো অঞ্চলের একটি প্রধান শহর ভেনিস। কয়েক শ বছর আগে যখন ভেনিস ইউরোপের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছিল, তখন তা ছিল একটি অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মিলনকেন্দ্র।

বিশেষত মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে তার ছিল জোরালো সম্পর্ক। ভেনিসিয়ান বণিক যেমন নীল নদ থেকে ইস্তাম্বুল এবং সেখান থেকে আজারবাইজান পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বের বিস্তৃত অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য বিস্তার করেছিল। তেমন মুসলিম বণিকদের পদচারণে মুখর হয়েছিল ভেনিস।

ভেনিসের ঐতিহাসিক নথিপত্রেও স্থান পেয়েছে মুসলিম বিশ্বের রাজনীতি, ইতিহাস, অর্থনীতি ও শিল্পকলার নানা বিষয়। আলেকজান্দ্রিয়া, ইস্তাম্বুল, দামেস্ক, আলেপ্পো, ট্রিবিজোন্ড ও তিবরিজের মতো মুসলিম শহরগুলোতে ভেনিসিয়ান বণিকদের স্বরব পদচারণ ছিল। প্রতিটি শহরে তাদের নিজস্ব গির্জা, পাদ্রি, বণিক, চিকিৎসক, নাপিত, বাবুর্চি, দর্জি ও স্বর্ণকার ছিল, যা একজন বেইলো বা কনসাল নিয়ন্ত্রণ করতেন।

মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে শক্তিশালী এই বাণিজ্য ভেনিসের অস্তিত্ব ও অবস্থানকে শক্তিশালী করেছিল। ঐতিহাসিকরা মনে করেন, ব্যবসা-বাণিজ্য না থাকলে ‘লা সেরেনিসিজিমা’ শক্তিশালী সামুদ্রিক রাষ্ট্র, যা খ্রিস্টীয় ১২ শতক থেকে ১৬ শতক পর্যন্ত সমুদ্র-বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রক ছিল, তা না হয়ে একটি মাছ ধরা গ্রাম থেকে যেত। ব্যবসা-বাণিজ্যই ভেনিসের ভাগ্য বদলে দেয়।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে মুসলিম প্রাচ্য থেকে ভেনিসে রেশম, মসলা, কার্পেট, সিরামিক, মুক্তা, ধাতব পদার্থ ও মূল্যবান ধাতু আসত। অন্যদিকে ভেনিস থেকে লবণ, কাঠ, লিলেন, উল, মখমল, আম্বর, ইতালিয়ান প্রবাল, সূক্ষ্ম কাপড় ও দাস মিসর, আনাতোলিয়া, স্প্যানিশ উপদ্বীপ ও পারস্যে যেত।

ভেনিসের বাজারেও যে মুসলিম বণিকদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল। ১৪৯৪ সালে মিলানিজ ধর্মযাজক পিয়েত্রো ক্যাসোলা ভেনিসের বাজার দেখে যে বিস্ময়কর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তা থেকে স্থানীয় বাজারে মুসলিম বিশ্বে উৎপদিত পণ্য ও মুসলিম ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘কে গণনা করতে পারে এত সুন্দর সজ্জিত দোকানগুলোকে—যেগুলো মনোহর পণ্যের গুদাম বলেই মনে হয়।

দীর্ঘ কাপড়সহ দেয়ালে ঝোলানো পর্দা, হাতে বোনা কাপড়, সব ধরনের কার্পেট, সিল্ক, মসলা, মুদি পণ্য, ওষুধ ও সুন্দর মোম। ’ ক্যাসোলার যে পণ্যগুলো দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন সেগুলো মূলত ভূ-মধ্য সাগরের মুসলিম দেশগুলো থেকে মুসলিম বণিকরা সে দেশের বাজারে উপস্থিত করেছিল। ‘ভেনিসের ন্যাচরাল হিস্টোরি মিউজিয়াম’ ভবনটি ভেনিসে মুসলিম ব্যবসায়ীদের ঐতিহাসিক উপস্থিতির সাক্ষ্য বহন করে।

১৩ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত ভবনটি ১৬২১ খ্রিস্টাব্দে তুর্কি ব্যবসায়ীদের আবাসিক ভবন ও গুদামঘর হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সমকালীন ভেনিসিয়ান শিল্পচিত্র, অঙ্কন, ছাপা বইসহ প্রায় সব শিল্পকর্মে মুসলিম বিশ্ব ও তার শিল্পকর্ম দ্বারা প্রভাবিত ছিল। ভেনিসের জাদুঘরগুলো সেই সোনালি সময়ের বহু নিদর্শন বহন করছে। সূত্র: এশিয়ান আর্ট নিউজ

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ