আজকের পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ সব খবর ২৪/০৫/২০২৫
প্রকাশ: ২৪ মে, ২০২৫, ০৪:৫৪ সকাল
নিউজ ডেস্ক

পত্রিকা

দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম 'অস্থিরতা কাটাতেই পদত্যাগের কথা'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকার নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষিতে নিজের পদত্যাগের প্রসঙ্গ তুলেছেন।

তিনি চান, আগের মতো তার প্রতি সবার আনুগত্য থাকুক। তবে সরকারি সূত্র বলছে, তিনি পদত্যাগের কথা সিরিয়াসলি বলেননি, বরং রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক করতেই এমন বক্তব্য দিয়েছেন।

নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন, বিশেষ করে বিএনপি ও এনসিপির ভূমিকা তাকে ক্ষুব্ধ করেছে। তিনি মনে করেন, যদি কাজ করতে না পারেন, তাহলে পদে থাকার মানে হয় না।

সেনাবাহিনীর এক অনুষ্ঠানে সদস্যদের অবস্থান ও সেনাপ্রধানের বক্তব্যও তাকে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। অনেক রাজনৈতিক নেতা ও বুদ্ধিজীবী তার পদত্যাগের ইঙ্গিতকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। 

কেউ বলেছেন, এটি আবেগের প্রকাশ, কেউ বলেছেন এটি সরকারের কৌশল। অনেকেই শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন আন্দোলনের কারণে দুর্ভোগে পড়ছে, যার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার সমালোচিত হচ্ছে।

উপদেষ্টা ইউনূস মনে করেন, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এবং সবার উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়া।

পত্রিকা

প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম 'সব দল চায় প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্বে থেকে নির্বাচন দিন'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের সম্ভাবনা ঘিরে দেশের রাজনীতিতে বড় আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে দায়িত্বে থাকার অনুরোধ জানাতে চায়।

তাদের মতে, ইউনূসের নেতৃত্বেই জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত। তিনি পদত্যাগ করলে দেশে অনিশ্চয়তা ও সংকট তৈরি হবে।

প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানান।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ, আন্দোলন, সড়ক অবরোধ এবং রাষ্ট্রীয় কাজে অসহযোগিতা তাঁকে হতাশ করেছে। সেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর থেকেই এ আলোচনা জোরালো হয়।

বিএনপি সহ বিভিন্ন দল সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দ্রুত সময়সূচি বা রোডম্যাপ চায়। এনসিপি ও ইসলামপন্থী দলগুলোও মনে করে, অধ্যাপক ইউনূস থাকলেই সংস্কার ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব। তাঁকে রাখার জন্য রাজপথে আন্দোলনের কথাও বলা হচ্ছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখন হচ্ছে—প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্বে থেকে দ্রুত একটি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেন কি না। আজকের একনেক বৈঠকে তিনি কী বলেন, সেদিকেই এখন সবার নজর।

পত্রিকা

কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম, 'পদত্যাগ প্রশ্নে শঙ্কা ও সংকট'

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের গুঞ্জনে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তার নেতৃত্বাধীন সরকার মাত্র নয় মাসেই সংকটে পড়েছে, বিশেষ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক চাপ, আন্দোলন এবং সিদ্ধান্তে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায়।

তবে উপদেষ্টারা তাকে পদত্যাগ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার, সেনাবাহিনীর লোগো ব্যবহার করে ভুয়া বার্তা ছড়ানোর বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।

বিশিষ্ট নাগরিকরা মনে করেন, এখন পদত্যাগ নয়, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় বসে সংকট নিরসন জরুরি।

তারা বলছেন, সংস্কার ও নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা না করায় সমস্যা বাড়ছে। বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায়। একই দাবি সেনাবাহিনী প্রধানের কথাতেও এসেছে।

আলোচনার অংশ হিসেবে আজ ড. ইউনূস বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।

সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের অপসারণ ও রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ড. ইউনূসের সামনে এখন তিনটি পথ—পদত্যাগ, দায়িত্বে থাকা অথবা সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা। পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানে দ্রুত ও সাহসী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন সবাই।

পত্রিকা

যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম 'জুলাই ঐক্যেই সমাধান'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, চলমান রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের গুঞ্জন ঘিরে।

বিশিষ্টজনেরা মনে করেন, এই পদত্যাগ বাস্তব হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। তারা বলেন, নির্বাচন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সবই অনিশ্চয়তায় পড়ে যাবে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, বিশেষ করে ফ্যাসিবাদবিরোধী 'জুলাই ঐক্য'কে সুসংহত করা এখন জরুরি।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের জন্য একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি উঠেছে।

সরকারের সঙ্গে দলগুলোর দূরত্ব বাড়ছে, যার ফলে আন্দোলনে সমর্থন দেওয়া দলগুলোর মধ্যেও দ্বন্দ্ব দেখা যাচ্ছে।

অনেকে মনে করেন, সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং আগের ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এই অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে ভারতসহ বাইরের শক্তি দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করতে পারে।

তারা বলেন, এখনই রাজনৈতিক দলগুলোকে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ভুলে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। না হলে এই সংকট ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় মূল্য নিয়ে আসবে।

পত্রিকা

দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম, 'Govt to recast social safety net schemes' 'সরকার সামাজিক সুরক্ষার প্রকল্পগুলো পুনর্গঠন করবে'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা করেছে।

বর্তমানে ১৪০টি কর্মসূচি থাকলেও তা কমিয়ে ১০০টির নিচে আনা হবে। এর মধ্যে ৩৮টি প্রকল্পকে "দরিদ্রবান্ধব" ধরা হবে, যেগুলো মূলত চরম দরিদ্রদের জন্য।

এই নতুন ব্যবস্থায় ১০ লাখ নতুন উপকারভোগী যুক্ত হবেন এবং অনেক পুরনো প্রকল্প বাদ যাবে।

এই কর্মসূচিগুলোর জন্য এবার বরাদ্দ হতে পারে ৯৫ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ।

আগের মতো চালিয়ে গেলে বরাদ্দের পরিমাণ হতো প্রায় এক লাখ ৪৪ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা।

নগদ সহায়তা কর্মসূচিতে মাসিক ভাতা ৫০ থেকে ১০০ টাকা বাড়ানো হবে, কিন্তু অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিমাণ খুব কম এবং বাস্তবিক সাহায্য কমই করবে।

প্রধান প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও অসহায় নারীদের জন্য ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, হিজড়া ও বেদে জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন কর্মসূচি, মা ও শিশুর কল্যাণ এবং দরিদ্রদের কর্মসংস্থান প্রকল্প।

এসব ভাতার পরিমাণ সামান্য বাড়লেও, অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান মনে করেন, প্রকৃত উপকার পেতে হলে বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা আনতে হবে।

পত্রিকা

নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম, 'নাশকতার নাটক সাজিয়ে পরিকল্পিত 'ক্রসফায়ার''

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সাতক্ষীরায় বহু বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীকে 'নাশকতার' মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কথিত 'ক্রসফায়ারে' পায়ে গুলি করে পঙ্গু করে দেয়।

এভাবে শতাধিক মানুষ এখন পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, যাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে ঘটনার আগে কোনো মামলা ছিল না।

আব্দুর রউফ, রিয়াজুল ইসলাম, রুহুল আমিন ও মজিদ সরকারের মতো অনেকেই পুলিশি গুলিতে পঙ্গু হয়ে জীবনযুদ্ধ চালাচ্ছেন। তাদের দাবি, এসব ঘটনা ছিল সাজানো এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

'নি ক্যাপিং' নামে এই পদ্ধতিতে হাঁটুর নিচে বা পাশে গুলি করা হয়, যাতে মানুষ বেঁচে থাকলেও সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, এসব ঘটনার সময় কোনো হামলা বা নাশকতা হয়নি, বরং পুলিশ নিজেরাই নাটক সাজিয়েছে।

পুলিশি এজাহার ও সাক্ষ্যনামায় রয়েছে গরমিল। অধিকাংশ সাক্ষী ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, অনেকেই ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগীরা এখন বিচার চান, অনেকে মামলা করেছেন তৎকালীন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

মানবাধিকার কর্মী ও বিশেষজ্ঞরা একে মধ্যযুগীয় বর্বরতার সঙ্গে তুলনা করেছেন। এতসব ঘটনার পরেও এখনো কেউ আইনের আওতায় আসেনি।

তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আলাদাভাবে এসব ঘটনার বিচার শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে।

Frontpage Preview

 
বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম, '