
|
মসজিদের নাম পরিবর্তন ঘিরে উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা জারি
প্রকাশ:
১৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৫ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
হবিগঞ্জের মাধবপুরে একটি মসজিদের নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এতে এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদ বিন কাশেম এ আদেশ জারি করেন। জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার ৭ নং জগদীশপুর ইউনিয়নের উত্তর বরগ গ্রামের আলহানি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উপজেলা প্রশাসনের জারি করা আদেশে মসজিদের চারপাশের ২০০ গজ এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক লোকের সমাবেশ, জনসভা, মাইকিং, মিছিল, স্লোগান, পিকেটিংসহ আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটাতে পারে-এমন সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মসজিদের সকল কার্যক্রম বন্ধ রেখে তালাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক যুগ আগে উত্তর বরগ গ্রামবাসীর উদ্যোগে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। মসজিদের জমিদাতা ও গ্রামবাসীর সম্মতিতে তখন এর নাম রাখা হয় ‘উত্তর বরগ আল মদিনা জামে মসজিদ’। পরবর্তীতে মসজিদের উন্নয়নের জন্য একই গ্রামের ছোয়াব মিয়ার সৌদি প্রবাসী ভাই সৌদি আরব থেকে কিছু অনুদান সংগ্রহ করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই অনুদান গ্রহণের সময় গ্রামবাসীদের না জানিয়ে মসজিদের আগের নামের সঙ্গে প্রবাসীর মৃত ছেলে আল হানীর নাম যুক্ত করে ‘উত্তর বরগ আল হানি জামে মসজিদ’ নামকরণ করা হয়। এতে গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলতে থাকে। সম্প্রতি গ্রামবাসীরা পূর্বের নাম পুনর্বহালের দাবিতে গত সপ্তাহে মসজিদে নতুন নামফলক লাগানোর চেষ্টা করলে ছোয়াব মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বাধা দেয়া হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে ছোয়াব মিয়ার পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করে। আবেদনের প্রেক্ষিতে রোববার উভয় পক্ষকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ডাকা হয়। সেখানে দুইপক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও বিরোধ নিষ্পত্তি হয়নি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রয়োগ করে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন। আইএইচ/ |