দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে খেলাফত মজলিসের পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা
প্রকাশ: ২৭ মে, ২০২৬, ০৯:২৭ সকাল
নিউজ ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের।

মঙ্গলবার (২৬ মে) এক যৌথ শুভেচ্ছা বার্তায় নেতৃদ্বয় বলেন, ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল পবিত্র ঈদুল আজহা মানবজীবনকে আত্মত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহভীতির আদর্শে উজ্জীবিত করে। তারা মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন, ঈদুল আজহার শিক্ষা যেন ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি, সাম্য ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখে।

নেতৃদ্বয় বলেন, মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনে হযরত ইবরাহীম (আ.) তাঁর প্রিয় সন্তান হযরত ইসমাঈল (আ.)-কে কুরবানি করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। অপরদিকে হযরত ইসমাঈল (আ.)-ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের জীবন উৎসর্গে প্রস্তুত ছিলেন। তাঁদের এই চরম আনুগত্য ও আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতেই আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর জন্য হজ ও ঈদুল আজহার কুরবানির বিধান নির্ধারণ করেছেন।

তারা বলেন, কেবল পশু কুরবানিই নয়, মানুষের অন্তরের পশুত্ব, হিংসা, লোভ ও অহংকারকেও কুরবানি দিতে হবে। ইসমাঈলী চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে তাকওয়াভিত্তিক ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সবাইকে আত্মনিয়োগ করতে হবে। ঈদুল আজহা সমাজে দানশীলতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয় বলেও উল্লেখ করেন তারা।

খেলাফত মজলিস নেতৃদ্বয় বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের নিপীড়নের পর দেশের মানুষ এবার দ্বিতীয়বারের মতো তুলনামূলক নির্ভীক পরিবেশে ঈদ উদযাপনের সুযোগ পাচ্ছে। তারা ফ্যাসিস্ট শাসনের নির্যাতনে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারগুলোর প্রতিও গভীর সমবেদনা জানান এবং এসব পরিবারেও ঈদের আনন্দ পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এছাড়া তারা বলেন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষ যেন ঈদের দিনে কুরবানির গোশত ভোগ করতে পারে, সেজন্য সামর্থ্যবানদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কুরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং ঈদযাত্রায় সড়ক ও বাসাবাড়ির নিরাপত্তায় প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেন।

আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গে নেতৃদ্বয় মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ ও মুসলিম বিশ্বের কার্যকর ভূমিকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নাগরিক অধিকার দিয়ে নিরাপদে আরাকানে প্রত্যাবাসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

তারা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ঈদুল আজহায় পশু কুরবানিতে বাধা দেওয়ার ঘটনাতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নির্যাতিত মানুষের মুক্তি ও শান্তি কামনা করেন।

 এমএম/