সিলেটের শাহী ঈদগাহের জামাতে লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম
প্রকাশ: ২৮ মে, ২০২৬, ১২:৩১ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে বৃষ্টি উপেক্ষা করে উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৮টায় আয়োজিত ঈদের জামাতে লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লির ঢল নামে। নামাজ শুরুর আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় পুরো ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকা।

মোবারক জামাত শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য দোয়া করা হয়। নির্যাতিত মুসলিমদের রক্ষায় মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করে মোনাজাতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেক মুসল্লি।

জামাতের আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করেন মুফতি মাওলানা জুনেদ আহমদ আনসারী। তিনি ঈদুল আজহার তাৎপর্য তুলে ধরে ত্যাগ, সংযম ও মানবকল্যাণের শিক্ষা অনুসরণের আহ্বান জানান।

নামাজ ও মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। নগরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ঈদের আনন্দ। নগরীর হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জামে মসজিদ, হজরত শাহপরান (রহ.) মাজার মসজিদ, সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ, কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদ এবং কালেক্টরেট জামে মসজিদেও বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটে।

জেলা ও মহানগর পুলিশের সূত্রে জানা যায়, মহানগরীতে ৩৯০টি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৪২টি খোলা মাঠে এবং ২৪৮টি মসজিদে। জেলাজুড়ে মোট ২ হাজার ৫৫১টি জামাতের আয়োজন করা হয়।

ঈদ জামাতকে ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় সর্বোচ্চ সতর্কতা। শাহী ঈদগাহ এলাকা চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে ঘেরা ছিল। মোতায়েন ছিল সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মোবাইল টিম, ট্রাফিক পুলিশ, ড্রোন নজরদারি ও রুফটপ ইউনিট। নগরীর অন্য এলাকাতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন।