যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য শুল্ক: বাংলাদেশের ওপর কত?
প্রকাশ: ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩২ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বাধ্যতামূলক শ্রম (ফোর্সড লেবার) প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে বাণিজ্য অংশীদারের পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ ও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। নতুন এই শুল্ক তালিকায় বাংলাদেশের নামও রয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে এসব শুল্ক কার্যকর হয়েছে। একই সময়ে ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকা অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদও শেষ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্যের ওপর এ শুল্ক প্রযোজ্য হবে। তবে তেল-গ্যাস, সার, কিছু খাদ্যপণ্য, উড়োজাহাজ ও যন্ত্রাংশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং জাতীয় নিরাপত্তাজনিত পৃথক শুল্কের আওতাভুক্ত পণ্য এ সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় এই শুল্ক আরোপ করেছে। এর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও প্রায় সব আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ন্যূনতম শুল্ক বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় আরোপ করা ট্রাম্পের ১০ থেকে ৫০ শতাংশ তথাকথিত ‘পারস্পরিক শুল্ক’ (Reciprocal Tariffs) বাতিল করে দেয়। এরপর প্রশাসন বিকল্প আইনি কাঠামো ব্যবহার করে নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়।

নতুন ব্যবস্থায় ২২টি দেশের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে। যার মধ্যে বাংলাদেশের নামও রয়েছে। বাকি ৩৮টি দেশের জন্য ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কপ্রাপ্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন ও ভিয়েতনাম। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীনে উইঘুর সংখ্যালঘুদের জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা হয়, যদিও বেইজিং এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। অন্যদিকে ভিয়েতনাম সম্প্রতি জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করতে নতুন বিধিমালা জারি করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য সমঝোতা অনুযায়ী চীনা পণ্যের ওপর দ্বিতীয় মেয়াদের শুল্ক আবার ২০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন, এই সিদ্ধান্ত অপ্রত্যাশিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুক্তি বাস্তবসম্মত নয়। তিনি বলেন, ইউরোপের শ্রম আইন ও শ্রমিকদের অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী।

অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিল এ শুল্ককে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। নরওয়ে বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে এমন শুল্ক আরোপের কোনো ভিত্তি নেই।

অন্যদিকে কানাডা, যাদের ওপর চলতি সপ্তাহেই ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, তুলনামূলক সংযত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক ল্যাব্লাঙ্ক বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: রয়টার্স