কিয়ামতের দিন যে প্রশ্নগুলোর উত্তর সবাইকে দিতে হবে
প্রকাশ: ২৬ জুলাই, ২০২৬, ০৩:২৫ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক

ঈমানের অন্যতম স্তম্ভ হলো পরকালের বিশ্বাস। আখেরাতে প্রত্যেক মানুষকে তার দুনিয়ার সব কৃতকর্মের হিসাব আল্লাহ তায়ালাকে দিতে হবে। তাই একজন প্রকৃত মুমিনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—হৃদয়ে আল্লাহর ভয় সদা জাগ্রত রাখা এবং প্রতিটি কাজে তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করা।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ, আল্লাহকে ভয় করো। প্রত্যেকে আগামীর (পরকাল) জন্য কী (পুণ্য কাজ) অগ্রিম পাঠিয়েছে, তা যেন চিন্তা করে। আল্লাহকে ভয় করো। তোমরা যা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে অবহিত।’ (সুরা হাশর: ১৮)

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকৃত বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যিনি পরকালে জবাবদিহির কথা সবসময় মনে রাখেন এবং সে অনুযায়ী দুনিয়ার জীবন পরিচালনা করেন। এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ঐ ব্যক্তি বুদ্ধিমান, যে নিজের হিসাব নিজে নেয় এবং মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের জন্য আমল করে। আর ঐ ব্যক্তি ব্যর্থ, যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং আল্লাহর কাছে (নাজাতের) মিথ্যা আশা করে বসে থাকে।’ (তিরমিজি শরিফ: ২৪৫৯)

পরকালে যে ৪টি প্রশ্নের উত্তর সবাইকে দিতে হবে:

কিয়ামতের কঠিন দিনে প্রত্যেক মানুষকে আল্লাহর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস অনুযায়ী, সেদিন চারটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে কোনো বান্দা এক কদমও সামনে যেতে পারবে না।

১. তার পুরো জীবন কোন কাজে ব্যয় করেছে?

২. নিজের অর্জিত ইলম বা জ্ঞান অনুসারে কেমন আমল করেছে?

৩. কোন উৎস বা খাত থেকে সম্পদ উপার্জন করেছে এবং তা কোথায়, কীভাবে ব্যয় করেছে?

৪. নিজের সুস্থতা ও দেহ কোন কাজে নিয়োজিত বা ব্যস্ত রেখেছে? (তিরমিজি শরিফ: ২৪১৭)

যারা দুনিয়ার জীবনে এই প্রশ্নগুলোর প্রস্তুতি নেবে এবং হাশরের ময়দানে যথাযথ উত্তর দিতে পারবে, তারাই সফল। পরকালের ভয়ই মানুষকে পাপাচার থেকে দূরে রাখে এবং জান্নাতের পথ সুগম করে।

আইও/