জুলাইয়ের ২৫ দিনেই রেমিট্যান্স এলো ২৮ হাজার কোটি টাকার বেশি
প্রকাশ: ২৬ জুলাই, ২০২৬, ০৭:৫৬ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের প্রথম ২৫ দিনেই দেশে রেকর্ড ২২৯ কোটি ৯০ লাখ থেকে ২২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ডলার ১২২.৭৫ টাকা হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকার বেশি।

রোববার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট প্রায় ২ দশমিক ২৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। এর আগে মাসের প্রথম পাঁচ দিনে এসেছিল ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ২১ দিনে রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ২০৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারে। পরে ২৫ দিনে তা বেড়ে প্রায় ২২৯ কোটি ৯০ লাখ ডলারে পৌঁছায়। শুধু ২২ থেকে ২৫ জুলাই—এই তিন দিনেই দেশে এসেছে প্রায় ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

গত ২০২৫–২৬ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক হিসাবে, গত বছরের প্রথম ২৫ দিনে দেশে এসেছিল ১৯০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সে হিসাবে চলতি বছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৯ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ২০ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে, আরেকটি হালনাগাদ হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ১৯৯ কোটি ৮২ লাখ ৮২ হাজার ডলার। সে তুলনায় চলতি বছরের প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৫ শতাংশ।

ব্যাংকভিত্তিক তথ্য বলছে, চলতি জুলাইয়ের প্রথম ২৫ দিনে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। এ সময়ে এসব ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৬৫ কোটি ৭১ লাখ মার্কিন ডলার। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৩ কোটি ৭১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩০ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং দেশে কার্যরত বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৬ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা, অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ হওয়া এবং ডলারের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা এখন ব্যাংকিং চ্যানেলকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর ফলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি জুলাই মাস শেষে রেমিট্যান্স তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়া, আমদানি ব্যয় নির্বাহ এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আইও/