
|
বেফাক মহাসচিবের কাছে সচেতন আলেম সমাজের ১২ দফা প্রস্তাবনা পেশ
প্রকাশ:
২৮ জুলাই, ২০২৬, ০৫:১২ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক চলমান সংকট নিরসন ও কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হকের কাছে ১২ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছে ‘সচেতন আলেম সমাজ’। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত এক সাক্ষাতে সংগঠনটির প্রতিনিধিরা এ প্রস্তাবনা তুলে দেন। এ সময় সচেতন আলেম সমাজের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মারকাযুল লুগাতিল আরাবিয়া বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতি মহিউদ্দীন ফারুকী, জামেয়া ইসলামিয়া আতহারুল উলুম আদিনাবাদ মাদরাসা, সিলেটের মুহতামিম মাওলানা রুহুল আমীন সাদী, আল-জামিয়া মদিনাতুল উলুম, হাজারীবাগ, ঢাকার মুহাদ্দিস মুফতি আবু মুহাম্মদ রাহমানী, জামিয়াতুল মানহাল, উত্তরার মুহাদ্দিস মুফতি আদনান মাসউদ, জামিয়াতুল উসতায শহীদুল্লাহ ফজলুল বারী রাহি-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা শফিকুল ইসলাম ইমদাদি রাহাত, জামিয়াতুস সুন্নাহ, কামরাঙ্গীরচর, ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতি আ ফ ম আকরাম হুসাইন, মক্কীনগর মাদরাসা, কেরানীগঞ্জের মুহাদ্দিস ও সবার খবর সম্পাদক আবদুল গাফফার, সময় টেলিভিশনের হেড অব ইসলাম বিভাগের অ্যাসোসিয়েট জয়েন্ট নিউজ এডিটর মুফতি আব্দুল্লাহ তামিম এবং ফেস দ্য পিপল-এর সাংবাদিক মাওলানা রাকিবুল ইসলাম রইস। প্রস্তাবনায় কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থায় সুশাসন, জবাবদিহিতা, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, শিশু সুরক্ষা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ১২টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো— ১. কেন্দ্রীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও সমন্বিত তথ্যভান্ডার (ডাটাবেজ) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সকল শিক্ষকের তথ্য সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা। ২. শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষাগত, চারিত্রিক ও পেশাগত যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ এবং তা বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করা। ৩. অনৈতিক, অপরাধমূলক বা গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত শিক্ষকদের কেন্দ্রীয় ব্ল্যাকলিস্ট প্রণয়ন এবং বিভিন্ন বোর্ডের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা করা। ৪. মাদরাসা প্রতিষ্ঠা, নিবন্ধন, অনুমোদন (ছাড়পত্র) এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর নবায়ন ব্যবস্থা চালু করা। ৫. মাদরাসার একাডেমিক, প্রশাসনিক, আবাসিক ও নৈতিক কার্যক্রমের নিয়মিত পরিদর্শন এবং পরিদর্শন ব্যবস্থার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা। ৬. শিক্ষকদের জন্য জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে পেশাগত দক্ষতা, শিশু সুরক্ষা, শিক্ষাদান পদ্ধতি ও নৈতিকতা বিষয়ে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা চালু করা। ৭. শিক্ষা উন্নয়ন, গবেষণা, পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা ও নীতিনির্ধারণে সহায়তার জন্য কেন্দ্রীয় রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা। ৮. শিশু সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন এবং সকল মাদরাসায় এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। ৯. অভিযোগ গ্রহণ, সুষ্ঠু তদন্ত ও নিষ্পত্তির জন্য একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক বোর্ডগুলোতেও মনিটরিং সেল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ, যাতে শিক্ষা, প্রশাসন, আর্থিক ও নৈতিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। ১০. মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন অভিযোগের শিকার প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের আইনি সহায়তা প্রদান এবং তাদের সুনাম রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ। ১১. শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য ২৪ ঘণ্টার কেন্দ্রীয় কল সেন্টার বা হেল্পলাইন চালু করে জরুরি সহায়তা, পরামর্শ ও অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা করা। ১২. মহিলা ও হিফজ মাদরাসা পরিচালনার ক্ষেত্রে শিক্ষা, আবাসন, নিরাপত্তা, শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ, তত্ত্বাবধান, অভিভাবক যোগাযোগ এবং শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পৃথক নীতিমালা ও ন্যূনতম মানদণ্ড প্রণয়ন এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। আইও/ |