ইতমিনান বোর্ডের বৃত্তি ও সংবর্ধনা পেল ৬১ প্রতিষ্ঠানের ১,২৫০ শিক্ষার্থী
প্রকাশ: ৩০ জুলাই, ২০২৬, ০৯:৩১ সকাল
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

কওমি ও জাতীয় শিক্ষাক্রমের সমন্বয়ে পরিচালিত শিক্ষা বোর্ড ইতমিনান বোর্ড বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী দেশের ৬১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১,২৫০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে দিনব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা অনুষ্ঠানে শিক্ষক, অভিভাবক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।

২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ইতমিনান বোর্ড বাংলাদেশের অধীনে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় এক হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষাক্রমভিত্তিক পাঠ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। বোর্ডটি নিজস্ব সমন্বিত সিলেবাসের মাধ্যমে দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর বলেন, হাফেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শুধু ইমামতি বা খতিবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তারা যোগ্যতা ও দক্ষতার মাধ্যমে রাষ্ট্রের উচ্চপদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম। তিনি বলেন, সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আলেমদের অংশগ্রহণ বাড়লে দেশ ও সমাজের নানা ক্ষেত্র আরও ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখীভাবে পরিচালিত হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ের চাহিদা বিবেচনায় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি আলেমদের জন্য সম্মানজনক ও উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগকে আরও সম্প্রসারণ করতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে কাজ করছে। এ বিষয়ে শিগগিরই ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইতমিনান বোর্ড বাংলাদেশের প্রধান মাওলানা মুফতি মুসা খান বলেন, ভবিষ্যতে দেশের আরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এই শিক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনা, প্রযুক্তিনির্ভর মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। অপরাধী অবশ্যই আইনের আওতায় আসবে, তবে অভিযোগ প্রমাণের আগেই কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হেয় করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং এতে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই করে দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত, যাতে ভুল তথ্যের কারণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অযথা উদ্বেগ সৃষ্টি না হয়।

তিনি আরও বলেন, নূরানী মাদরাসা, মক্তব, ইসলামিক স্কুল ও কিন্ডারগার্টেন মাদরাসাগুলো শুধু শিক্ষা নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বেফাকসহ কেন্দ্রীয় বোর্ডের আওতাভুক্ত এবং দেশের প্রচলিত আইন মেনে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানকে নিরুৎসাহিত না করে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।

ইতমিনান বোর্ড বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইসলামী মূল্যবোধ, আধুনিক শিক্ষা ও নৈতিক চরিত্র গঠনের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মাদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী এবং আন্তর্জাতিক ক্বারি আহমদ বিন ইউসুফ আল-আজহারীসহ দেশের বিশিষ্ট আলেম, শিক্ষাবিদ ও অতিথিবৃন্দ।

আইও/