চট্টগ্রাম প্রাইভেট মাদরাসা অ্যাসোসিয়েশনের ১০ দফা নির্দেশনা
প্রকাশ: ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪২ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চলমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা, শায়খুল হুফফাজ হাফিজ মুহাম্মদ তৈয়ব (রহ.)-এর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া, তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে জরুরি আলোচনা সভা করেছে চট্টগ্রাম প্রাইভেট মাদরাসা অ্যাসোসিয়েশন।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে নগরীর বহদ্দারহাটস্থ কাশবন রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা জিয়াউল হোসাইন জিয়া। সভা পরিচালনা করেন মহাসচিব মীর মুহাম্মদ ইউসুফ ছানুভী। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক স্কলার ড. শোয়াইব রশিদ মাক্কী। এছাড়া কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দায়িত্বশীল, চট্টগ্রাম মহানগর ও বিভিন্ন জোন এবং থানা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভার শুরুতে শায়খুল হুফফাজ হাফিজ মুহাম্মদ তৈয়ব (রহ.)-এর রুহের মাগফিরাত কামনা করে ঈসালে সওয়াব ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন শায়খুল হুফফাজ হাফিজ মুহাম্মদ আবদুল মান্নান।

সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, হাফিজ মুহাম্মদ তৈয়ব (রহ.) প্রতিষ্ঠিত সেগুনবাগান তা'লীমুল কুরআন মাদরাসা ও ইয়াতিমখানা এবং জালালাবাদ তা'লীমুল কুরআন মাদরাসা ও ইয়াতিমখানাকে কেন্দ্র করে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এ সময় মিথ্যা ও সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মাওলানা আজহারউদ্দীন ও মাওলানা মোস্তাক আহমাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, শায়খুল হুফফাজ (রহ.)-এর রেখে যাওয়া দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও এতিমখানাগুলোর সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনি ও সামাজিক পদক্ষেপ গ্রহণে এসোসিয়েশন সক্রিয় থাকবে।

১০ দফা নির্দেশনা

সভায় দীনি শিক্ষার ভাবমূর্তি রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বসম্মতিক্রমে ১০ দফা নির্দেশনা গৃহীত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

শিক্ষার্থীদের ওপর সব ধরনের শারীরিক প্রহার, মানসিক নির্যাতন ও অনভিপ্রেত আচরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।

কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীর সঙ্গে নির্জনে একান্তে অবস্থান করতে পারবেন না এবং শিক্ষার্থীদের দিয়ে ব্যক্তিগত সেবা গ্রহণ করা যাবে না।

ক্লাসরুম, বারান্দা, নূরানী, হিফজ ও আবাসিক বিভাগে বাধ্যতামূলক সিসিটিভি স্থাপন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা।

আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ছোট শিশুদের অনাবাসিক শিক্ষায় উৎসাহিত করা।

শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি চারিত্রিক সততা, মানসিক পরিপক্বতা ও পারিবারিক পটভূমি যাচাই করা।

শিশু মনস্তত্ত্ব, সুন্নাহসম্মত আচরণ ও আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতির ওপর নিয়মিত শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

বালিকা ও মহিলা মাদরাসায় প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম শতভাগ নারী শিক্ষক ও কর্মীদের মাধ্যমে পরিচালনা করা।

অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবককে অবহিত করা।

পরিকল্পনাহীনভাবে নতুন মাদরাসা প্রতিষ্ঠা নিরুৎসাহিত করে প্রয়োজন ও নীতিমালার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা।

সভা শেষে চট্টগ্রাম প্রাইভেট মাদরাসা এসোসিয়েশন সংশ্লিষ্ট সকল মাদরাসা কর্তৃপক্ষ, আলেম-ওলামা ও শিক্ষকদের প্রতি এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানায়। সংগঠনটির নেতারা বলেন, দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিকতা গঠনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনার সুযোগ নিয়ে যেন কেউ দ্বীনি শিক্ষার ঐতিহ্য ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আইও/