একটি ভাইরাল ভিডিও, এক আলেম এবং অজানা কিছু প্রশ্ন
প্রকাশ: ১২ জুন, ২০২৬, ১১:৪১ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

|| সাইমুম সাদী ||

একজন হুজুরকে আটক করা হয়েছে।  তিনি এক মহিলার সাথে আকাম করতে গিয়ে জনতা তাকে আটক করেছে। 

হুজুরের পাশেই বোরকা পরা সেই মহিলাকে ফোনে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে ভিডিও তে। যিনি হুজুর তার পরনে শুধুমাত্র গেঞ্জি আছে৷ আর কিছু নেই।  আকাম করতে গেলে জুব্বা পাগড়ি পাজামা খুলতে হয়৷

এরকম একটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড হয়েছে দু দিন আগে। ভিডিও দেখার পর, আধা নেং *টা হুজুরকে দেখার পর হুজুরদের প্রতি ঘৃণা করা ছাড়া উপায় নেই। 

যেহেতু ভিডিও আছে দাড়িওয়ালা হুজুরকে নেংটা অবস্থায় ভিডিও তে দেখা যাচ্ছে সুতরাং সিনেমার কাহিনি  বিশ্বাস করতেই হয়। আমি তাই করেছি।

গতকাল সেই হুজুর পল্টনে এসেছিলেন। তার কাছ থেকে যা শুনলাম তা অবশ্য আরেক কাহিনি৷ রহস্য গল্পের স্বাদ পাওয়া যায়। 

হুজুর বললেন,  রমজানের ঈদের তিন দিন পর সায়েদাবাদে বাস টার্মিনালের পাশ থেকে তাকে কিডন্যাপ করে একদল মানুষ।  সাথে কিছু হিজরাও ছিলো। 

তারা তার টাকা পয়সা ফোন সবকিছু ছিনিয়ে নেয়। বিকাশে টাকা এনে দিতে চাপ দেয়। মারধর করে।  এক লক্ষ টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দিবে বলে।  এবং একজন পুরুষকে বোরকা পরিয়ে তাকে নেং টা করে ভিডিও করে।  আমরা ওই ভিডিওতে হুজুরের পাশে যে বোরকা পরা সুন্দরীকে দেখেছি তিনি মহিলা নন, বিচিওয়ালা খালাম্মা।  এবং ওই ভিডিওতে শোনা যাচ্ছে টাকা আনার জন্য হুজুরকে বলা হচ্ছে৷

এই আলেমকে যদি সত্যি সত্যি কুকর্ম অবস্থায় ধরা হত তাহলে টাকা দেওয়ার কথা কেনো আসবে?  বোরকা পরা খালাম্মা যদি মহিলা না হয়ে পুরুষ হন তাহলে তা বুঝা  কোনো ব্যাপার নয়। ঘটনা ক্লিয়ার।

কিন্তু সকল মিডিয়ায়, টিভি চ্যানেলে সবখানে এই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ইতিমধ্যে।

জি ভাই এভাবেই আলেমদেরকে বিশ্বাসযোগ্য অবস্থায় আকামের গল্প তৈরি করে ইমেজ নষ্ট করা হচ্ছে। দুই মাস আগের ভিডিও ছেড়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

আমরা আগেই বলেছিলাম ফেসবুক খুললেই যে মাদরাসায় বলাৎকার এবং অশ্লীলতার যেসব নিউজ দেখি তার বেশিরভাগ হচ্ছে একটা আন্তর্জাতিক প্রজেক্টের অংশ।

আজ বা কাল হোক এসব উন্মোচিত হবে। কিন্তু ততক্ষণে মাদরাসা বলতে কিছু থাকবে কি না জানি না।

লেখক: অ্যাকটিভিস্ট, চিন্তক ও বিশ্লেষক

জেডএম/