
|
সংস্কার শেষে উন্মুক্ত হলো তুরস্কের ঐতিহাসিক সেলিমিয়ে মসজিদ
প্রকাশ:
১৩ জুন, ২০২৬, ০৩:৩৭ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
চার বছরব্যাপী ব্যাপক সংস্কার কাজ শেষে আবারও দর্শনার্থী ও মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে অটোমান সাম্রাজ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য নিদর্শন তুরস্কের এদিরনে শহরের ঐতিহাসিক সেলিমিয়ে মসজিদ। সংস্কারের পর মসজিদটি ফিরে পেয়েছে তার প্রাচীন সৌন্দর্য, ঐতিহ্য ও স্থাপত্যিক গৌরব। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত এই মসজিদটি ১৫৬৮ থেকে ১৫৭৫ সালের মধ্যে অটোমান সাম্রাজ্যের কিংবদন্তি স্থপতি মিমার সিনানের নকশায় নির্মিত হয়। স্থাপত্যশিল্পের অনন্য এই কীর্তিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে ২০২১ সালের শেষ দিকে ব্যাপক সংস্কার ও সংরক্ষণ প্রকল্প শুরু করা হয়। দীর্ঘ চার বছরের সংস্কার কার্যক্রমে মসজিদটির বিশাল গম্বুজ, সুউচ্চ মিনার, পাথরের সূক্ষ্ম কারুকাজ, ক্যালিগ্রাফি, অভ্যন্তরীণ সজ্জা এবং পুরো কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অংশ অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। তুরস্কের জেনারেল ডিরেক্টরেট অব ফাউন্ডেশনসের তত্ত্বাবধানে একদল বিশেষজ্ঞ এই সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মসজিদটির পুনরায় উদ্বোধন করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। এ সময় তিনি বলেন, সংস্কারকাজে ঐতিহাসিক স্থাপনাটির মূল বৈশিষ্ট্য ও অতীতের স্মৃতিচিহ্নগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে। বিশেষ করে বলকান যুদ্ধের সময় বুলগেরীয় বাহিনীর নিক্ষিপ্ত কামানের গোলার যে চিহ্ন মসজিদের দেয়ালে রয়েছে, সেটি ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে আগের অবস্থাতেই রাখা হয়েছে। প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন তুর্কি লিরা বা প্রায় ৯৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয়ে সম্পন্ন হওয়া এই প্রকল্প সম্পর্কে এরদোয়ান আশা প্রকাশ করেন, মানব ইতিহাসের এই অসাধারণ স্থাপত্যকর্ম আগামী আরও বহু শতাব্দী ধরে তার মহিমা ধরে রাখবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি আরও ঘোষণা দেন, ১৮৭৭-১৮৭৮ সালের রুশ-তুর্কি যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহাসিক এদিরনে প্রাসাদের পুনর্নির্মাণ কাজও শুরু হয়েছে। ইউরোপের বৃহত্তম পুনরুদ্ধার প্রকল্পগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত এই কাজ ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রাসাদ ও এর মনোরম বাগান সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। জেডএম/ |