
|
জনগণের অধিকার রক্ষায় যুবসমাজকে সোচ্চার হতে হবে: মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক
প্রকাশ:
১৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:০৩ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
যুব জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে মাওলানা ইসহাক কামাল, সিনিয়র সহ সভাপতি মাওলানা সোলাইমান মাদানী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা চৌধুরী নাসির আহমদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আতাউর রহমানকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এছাড়াও সংগঠনটির ৬১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তাফাজ্জল হল আজিজ। সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জমিয়ত সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেছেন, আমাদের প্রথম দায়িত্ব হলো ইলমে ওহীকে সংরক্ষণ করা। প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে যে দ্বীনি আমানত আমাদের কাছে পৌঁছেছে, তা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। রাজনৈতিক স্বার্থে আকায়েদ ও দ্বীনের বিষয় আড়াল করার কোনো প্রতারণার রাজনীতি আমরা করি না। যারা এমন করে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। তিনি বলেছেন, ব্যক্তিগত জীবন যদি সুন্দর না হয়, জরুরিয়াতে দ্বীনের ওপর চলা না হয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্বীনদারী যদি না থাকে, তাহলে আপনি যত বড় নেতাই হোন, আখিরাতে তা কোনো কাজে আসবে না। রাজনীতি করতে গিয়ে আমরা দ্বীনের হালাল-হারাম বিসর্জন দেব না, ভাইরাল হওয়ার রাজনীতি করব না এবং বাতিলের সঙ্গে আপস করব না। আমাদের রাজনীতি হবে দ্বীন ও ইসলামের হেফাজতের জন্য, দ্বীনদারী টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনে সবকিছু ত্যাগ করতেও আমরা প্রস্তুত। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০ টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে যুব জমিয়তের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ও কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা ফারুক এসব কথা বলেন। যুব জমিয়তের সভাপতি মাওলানা তাফহীমুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলন যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন যুব জমিয়তের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সুলাইমান মাদানী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা চৌধুরী নাসির আহমদ। বক্তব্যে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক আরও বলেন, যুব জমিয়ত শুধু ওলামায়ে কেরামের সংগঠন নয়। ওলামায়ে কেরাম নেতৃত্ব দেবেন, আর ব্যবসায়ী, তরুণ ও সাধারণ দ্বীনদার মানুষকে সম্পৃক্ত করে জেলা, উপজেলা ও ইউনিট পর্যায়ে কমিটি গঠন করতে হবে। প্রতিটি কমিটিতে কয়েকজন আলেম থাকবেন, পাশাপাশি বৃহৎ অংশ থাকবে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব। প্রধান বক্তার বক্তব্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেছেন, সময় এসেছে, এই দেশে আমাদের পূর্বপুরুষদের অবদান ও ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করার। ১৯৭১ সালে আমাদের ভাইয়েরা বুকের রক্ত দিয়েছেন, ২০২৪ সালেও আমাদের ভাইয়েরা জীবন দিয়েছেন। যুব জমিয়ত সেই ধারাবাহিক সংগ্রামের অংশীদার। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে জুলাই-আগস্ট পরবর্তী সময়ে কোনো বৈষম্য, জুলুম, শোষণ ও বঞ্চনা থাকবে না। আমরা চাই না দেশে আর কোনো স্বৈরতন্ত্র ফিরে আসুক। তিনি বলেছেন, আজ কৃষক সার সংকটে ভুগছেন, সিন্ডিকেটের কারণে যে সার এক হাজার টাকায় পাওয়ার কথা, তা দুই হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গ্যাস সংকট আমরা দেখতে চাই না। দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনকে সংকটমুক্ত করতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আফেন্দি বলেছেন, ১৯৭১ ও ২০২৪ দুই সময়ের শহীদদের আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। তথ্যসন্ত্রাস ও ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে ২০২৪-এর অবদান মুছে ফেলা যাবে না। অতীতে যেমন ১৯৭১-এর অর্জনকে এককভাবে পকেটবন্দি করার চেষ্টা হয়েছিল, আজও ২০২৪-এর অবদান পকেটবন্দি করার চেষ্টা চলছে। আমরা তা হতে দেব না, ইনশাআল্লাহ। নতুন কোনো বিভেদ-বিভাজনের দেয়াল তৈরি হতে দিবো না। আমরা ঐক্যের বাংলাদেশ চাই। সকল বিভাজনের দেয়াল ভেঙে দিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়াই হবে যুব জমিয়তের অঙ্গীকার। সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তাফাজ্জুল হক আজিজ, মাওলানা মতিউর রহমান গাজীপুরী, মাওলানা আব্দুল মালেক চৌধুরী, সহকারী মহাসচিব মাওলানা জয়নুল আবেদীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাযহারী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি নাসিরুদ্দিন খান, প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মুফতি মাহবুবুল আলম, দফতর সম্পাদক মাওলানা হেদায়েতুল ইসলাম, মাওলানা মোস্তফা মাহমুদী, ছাত্র জমিয়তের সাবেক সভাপতি মুফতি এখলাসুর রহমান রিয়াদ, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী প্রমুখ। এসএইচ/ |