মসজিদুল হারামের সেবায় নিয়োজিত দম্পতির হৃদয়ছোঁয়া গল্প
প্রকাশ: ২৩ জুন, ২০২৬, ০৪:১৯ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক-

পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলমানের স্বপ্ন পবিত্র মসজিদুল হারামে সেবা করার সুযোগ পাওয়া। শ্রীলঙ্কার মুসলিম নারী ফাতিমা সেই সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন ১৭ বছর আগে। তবে তাঁর জীবনের এই গৌরবময় অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিচ্ছেদ, ধৈর্য, দোয়া এবং পুনর্মিলনের এক অনন্য গল্প।

প্রায় ১৭ বছর আগে ফাতিমা মক্কায় এসে মসজিদুল হারামের খাদেম হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পবিত্র কাবাঘরের সেবায় নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ তাঁর জন্য ছিল বিরাট সম্মান ও আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। কিন্তু এই আনন্দের মাঝেও ছিল প্রিয় স্বামী আশরাফকে ছেড়ে থাকার কষ্ট।

ফাতিমা মক্কায় অবস্থান করলেও তাঁর হৃদয় পড়ে থাকত শ্রীলঙ্কায়। অন্যদিকে স্বামী আশরাফও দীর্ঘ সময় একাকীত্বের জীবন কাটিয়েছেন। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘স্ত্রী চলে যাওয়ার পর আমার জীবন যেন শূন্য হয়ে গিয়েছিল। বছর কেটে গেছে, কিন্তু মন কোথাও শান্তি খুঁজে পায়নি।’

মসজিদুল হারামে প্রতিদিন লাখো মুসল্লি ও ওমরাহযাত্রীর সেবায় নিয়োজিত থাকতেন ফাতিমা। হারামের কার্পেট, জায়নামাজ ও বিভিন্ন সেবামূলক দায়িত্ব পালন করলেও তাঁর হৃদয়ের গভীরে একটি দোয়া সবসময় জীবন্ত ছিল—স্বামীকেও যেন আল্লাহ তাঁর ঘরের সেবার সুযোগ দান করেন।

একদিন, একমাস বা এক বছরে নয়—টানা চার বছর ধরে সেই দোয়া অব্যাহত রেখেছিলেন তিনি। অবশেষে আল্লাহ তাঁর আকুতি কবুল করেন। মসজিদুল হারাম কর্তৃপক্ষ ফাতিমার আবেদনে সাড়া দিয়ে আশরাফকে শ্রীলঙ্কা থেকে মক্কায় সেবাকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেয়।

সেই দিনটি ছিল শুধু স্বামী-স্ত্রীর পুনর্মিলনের দিন নয়; বরং দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর দুটি হৃদয়ের আবার এক হয়ে যাওয়ার দিন। পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র ভূমিতে, কাবাঘরের সান্নিধ্যে তাদের সেই মিলন ঘটেছিল।

বর্তমানে ফাতিমা ও আশরাফ মসজিদুল হারামের প্রায় ১২ হাজার খাদেমের একজন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের কাছে এটি কেবল চাকরি নয়; বরং ইবাদত, সম্মান এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত এক মহাসৌভাগ্য।

১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের চোখে আজও প্রথম দিনের মতো উচ্ছ্বাস। এই দম্পতির ভাষায়, ‘কাবার ছায়াতলে একসঙ্গে সেবা করার যে আনন্দ আল্লাহ আমাদের দান করেছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’

ফাতিমা ও আশরাফের জীবনগল্প প্রমাণ করে, আন্তরিক ভালোবাসা, ধৈর্য এবং নিষ্ঠার সঙ্গে করা দোয়া কখনো বিফলে যায় না। আল্লাহ যখন চান, তখন অসম্ভব মনে হওয়া পথও সহজ করে দেন।

বিচ্ছেদের বেদনা থেকে শুরু করে পবিত্র হারামের সেবায় একসঙ্গে জীবন কাটানোর এই গল্প আজ অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। এটি শুধু একটি দম্পতির পুনর্মিলনের কাহিনি নয়, বরং আল্লাহর ঘরের খেদমতে নিবেদিত দুই সৌভাগ্যবান মানুষের জীবনের এক অনন্য অধ্যায়।

সূত্র: ইউএনএ নিউজ

আইও