‘দলে কওমি বিদ্বেষীদের না থামালে জামায়াতকে মাশুল গুনতে হবে’
প্রকাশ: ২৪ জুন, ২০২৬, ১০:৫০ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

আশরাফ উদ্দীন মাহদী-

উস্তাযে মুহতারাম মাওলানা ক্বারী আবু রায়হান সাহেব সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দীর্ঘ সময় থেকে হুজুরের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানলাম।

হুজুরের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসী মোশাররফ গ্রেপ্তার হয়েছে। তবে তার গ্রেপ্তারটা এড়ানোর জন্য গত দুই দিন যে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে সেটাই সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি। এবং দুইজন সন্ত্রাসী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

হামলাকারী মোশাররফ ও তার আপন বড়ভাই আলম (জামায়াতের রোকন) দুইজনই জামায়াত এমপির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ লোক। নির্বাচনের মূল কার্যক্রম তাদের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়েছে। যার কারণে এত ন্যক্কারজনক হামলার পরও দুইদিন পর্যন্ত থানায় তাদের নামে মামলা পর্যন্ত করা যায় নাই।

আজ সকালে হুজুরের ছোট ছেলে ইফতেখার জামিলের ফেসবুক স্ট্যাটাসের আগ পর্যন্ত হামলাকারীরা বাড়িঘর ঘেরাও করে শোডাউন দিয়েছে আর বলেছে "আবার বাড়িতে আসলে মাথা ফাটিয়ে দিব"।

এদের এত ক্ষমতা কোত্থেকে আসলো?  আস্কারা কারা দেয়? এই প্রশ্নের উত্তর তো অবশ্যই রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব।

কিন্তু ফেসবুকে প্রতিবাদ শুরু হওয়ার পর আজকে এমপি হুজুরকে দেখতে আসলো। এবং অভদ্রের মত প্রশ্ন করলো "কেন ফেসবুকে দলের নাম নিল ইফতেখার।"

অথচ দুইদিন ধরে শত চেষ্টা করেও এমপির কোন প্রতিক্রিয়া জানা যায়নাই। আজকে প্রতিবাদ না হলে সে হুজুরকে দেখতেও যেত না।

জামায়াতের মধ্যে আশংকাজনকহারে কওমি আলেমদের ওপর বিদ্বেষ তৈরি হচ্ছে। যার প্রমাণ আজকে আরেকবার দেখালো জামাত শিবিরের অনলাইন সমর্থকরা।

সন্ত্রাসীদের ধোয়া তুলশিপাতা প্রমাণের জন্য ফেসবুকে এমন কোনো মিথ্যাচার নাই যা তারা আজকে করে নাই। এমপির পিএস পর্যন্ত হামলাকারীকে ইফতেখারের ‘আপন ভাই’ বলে অপপ্রচার করে বেরিয়েছে।

দলীয় প্রভাব ঘাটিয়ে বীরদর্পে চলতে পারা অপরাধী আর দলের ভেতরের কওমি বিদ্বেষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারলে জামায়াতকে এর মাশুল দিতে হবে।

লেখক: কেন্দ্রীয় নেতা, জাতীয় নাগরিক পার্টি

জেডএম/