
|
লাউড স্পিকারে আজান নিষিদ্ধ করতে চায় ডেনমার্ক সরকার
প্রকাশ:
২৬ জুন, ২০২৬, ০২:৩৭ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেনমার্কে মসজিদ থেকে লাউড স্পিকারে আজান সম্প্রচারের ওপর দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা আবারও আলোচনায় এসেছে। দেশটির সরকার এ বিষয়ে নতুন কোনো আইন কার্যকর করেনি; তবে আইনগতভাবে এমন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া সম্ভব কি না, তা পুনরায় পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। ডেনমার্কের অভিবাসনমন্ত্রী মর্টেন বোডস্কভ ডেনিশ সংবাদ সংস্থা রিটজাউকে বলেন, ডেনমার্কের আকাশে আজানের ধ্বনি শোনা উচিত নয়। আমাদের দেশে এর কোনো স্থান নেই। তিনি দাবি করেন, দেশের কিছু এলাকায় ইসলামের প্রভাব জনপরিসরে ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে, যা নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন। মন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর বিষয়টি দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে সরকার এখনো কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি। বরং এ ধরনের আইন সংবিধান ও বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে কি না, তা যাচাই করতে আইনি পর্যালোচনা শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি তৃতীয়বারের মতো কোনো ডেনিশ অভিবাসনমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আজান নিষিদ্ধের উদ্যোগ। এর আগে ২০২০ ও ২০২৫ সালেও একই ধরনের প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে ডেনমার্কে দেশব্যাপী আজান নিষিদ্ধ নয়। তবে রাজধানী কোপেনহেগেনসহ কয়েকটি এলাকায় স্থানীয় শব্দদূষণবিষয়ক বিধিমালার কারণে মসজিদ থেকে লাউডস্পিকারে আজান প্রচারে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি পরিচালিত হয়। প্রায় ৬০ লাখ জনসংখ্যার দেশ ডেনমার্কে আনুমানিক ২ লাখ ৭০ হাজার মুসলিম বসবাস করেন। দেশটিতে প্রায় ১০০টি মসজিদ রয়েছে। কোপেনহেগেনের গ্র্যান্ড মসজিদ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে বাইরে লাউডস্পিকারে আজান সম্প্রচার করে না। বিশ্লেষকদের মতে, সরকার যদি দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ নেয়, তবে তা সংবিধানে স্বীকৃত ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের কারণে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তাই সরকারের পর্যালোচনায় ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থ—উভয় বিষয়ই গুরুত্ব পাবে। উল্লেখ্য, ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ, যেমন জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় মসজিদ থেকে লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় ও শব্দের মাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের অসুবিধা কম হয়। এ অবস্থায় ডেনমার্কে আজান নিষিদ্ধ হয়েছে—এমন দাবি সঠিক নয়। বিষয়টি এখনো সরকারের আইনগত পর্যালোচনা ও সম্ভাব্য আইন প্রণয়নের প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে। আইও/ |