ফরিদপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৪০
প্রকাশ: ২৮ জুন, ২০২৬, ০৬:৫৮ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদকবিরোধী সভাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।

রোববার (২৮ জুন) সকালে হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় চার ঘণ্টা ফরিদপুর-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের বিরোধ চলছিল। এর মধ্যে একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ছিরু মিয়া, কালাম কাজী, জাহিদ শেখ, মিরাজ মাতুব্বর ও বাকি মাতুব্বর। অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন খোকন মিয়া চেয়ারম্যান, মোকসেদ খালাসী, ইলিয়াস মাতুব্বর ও বাদল মাতুব্বর।

গত শুক্রবার কালাম কাজীর বাড়িতে এবং শনিবার (২৭ জুন) হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদে মাদকবিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভুল–বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এক পক্ষের দাবি, মাদকবিরোধী সভার আড়ালে প্রতিপক্ষ দল ভারী করার চেষ্টা করেছে। অন্য পক্ষের অভিযোগ, সভায় অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শনিবার সন্ধ্যায় দেলোয়ার মাতুব্বরের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনার জেরে রোববার (২৮ জুন) সকালে পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, টেঁটা, ঢাল, সরকি ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হন। গুরুতর আহত আকতার মাতুব্বর, রিয়াদ মাতুব্বর ও মামুন মাতুব্বরকে ভাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন মিয়া বলেন, মাদকবিরোধী সভায় অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের সমর্থক দেলোয়ার মাতুব্বরের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

অন্যদিকে ছিরু মিয়া দাবি করেন, মাদকবিরোধী সভার নামে মাদক কারবারিদের একত্র করা হয়েছিল। এ কারণেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, সকাল ৯টার দিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ শুরু করে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সংঘর্ষ থেমে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। সংঘর্ষে কোনো যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজওয়ান দীপু বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ৩০ থেকে ৪০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। কোনো পক্ষই থানায় মামলা বা লিখিত অভিযোগ দেয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

আইও